ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

তাহিরপুরে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, কর্মহীন খেটে খাওয়া মানুষ

তাহিরপুরে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, কর্মহীন খেটে খাওয়া মানুষ
×

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙনে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ছবি: সমকাল

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ১৭:৫৭

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের শক্তিয়ার খলা ১০০ ফুট ও আনোয়ারপুর সড়কের ৫০ ফুট রাস্তা ২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙনে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে উপজেলার ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অঙিনায় পাহাড়ি ঢলের পানি ওঠায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যেতে নানামুখী প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

৩ দিন ধরে বৈরী আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে যাদুকাটা বৌলাই, মাহারাম, রক্তি পাটলাই নদী দিয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করে ঢলের পানি নেমে আসছে। তাহিরপুরের নিম্নাঞ্চলের ৫০টিরও বেশি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। যাদুকাটা ও মাহারাম নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে অতিক্রম করায় এসব নদী থেকে বালি পাথর উত্তোলনকারী প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে বড়ছরা শুল্ক স্টেশন ও চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনে পাহাড়িছড়া দিয়ে ঢলের পানি নেমে শতাধিক কয়লার ডিপো প্লাবিত হয়েছে। এতে ১০ হাজার কয়লা পরিবহন শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। নদী ও হাওরের পানিতে নদী তীরবর্তী ও হাওড়পাড়ের গ্রামগুলো বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙনের মুখে পড়েছে। এ ছাড়া দৈনন্দিন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ ও মৎস্য আহরণকারী জেলেরা হাওরের বিশাল ঢেউ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে মাছ ধরতে না পারায় পরিবার নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।

পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত গ্রামগুলো হলো উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের রাজধরপুর, রামজীবনপুর, সাহেবনগর, পৈন্ডুপ, গোপালপুর, মারালা, নোয়ানগর, নোয়াগাঁও, ইক্রামপুর, জগদীশপুর, সাহসপুর, সুলেমানপুর, উমেদপুর, আনন্দনগর, পাটাবুকা, ভবানীপুর, দুমাল, লামাগাঁও উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বিনোদপুর, ইন্দ্রপুর, পানিয়াখালী, জয়পুর, গোলাবাড়ী, ছিলানিতাহিরপুর, ভোরারঘাট, কামালপুর জামালপুর, মাটিয়ান দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের জামলাবাজ, টাকাটুকিয়া, রসুলপুর, কাউকান্দি, কামারকান্দি বাদাঘাট ইউনিয়নের ধরুন্দ, কাঞ্চনপুর, ইউনূছপুর পাতারগাঁওসহ অর্ধশতাধিক গ্রাম।

এছাড়া আনোয়ারপুর বাজারসংলগ্ন সেতুর পূর্বপাশের ৫০ মিটার রাস্তাটিও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যে কারণে ঝুঁকির মধ্যে যানবাহন চলাচল করছে। তাহিরপুর বাদাঘাট সড়কের জামালগড়ে ভাঙনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের আনন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হুদা জানান, পাহাড়ি ঢলের পানি এলেই বিদ্যালয়টির আঙিনা পানির নীচে তলিয়ে যায়। যে কারণে আমরা প্রতি বছর বর্ষার শুরুতেই বিদ্যালয়ের যাবতীয় কাগজপত্রাদি স্বাভাবিক অবস্থা থেকে একটু উঁচু স্থানে রাখি যেন বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের লক্ষিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমর ভৌমিক জানান, প্রতি বছর বর্ষার শুরুতেই আনন্দনগর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াহাট, আমবাড়ি ও মাহতাবপুর এ পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনা পাহাড়ি ঢল এলেই তলিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, এ পাঁচটি বিদ্যালয়ে নতুন ভবন স্থাপন করা না হলে সমস্যা থেকেই যাবে। তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বা‌য়ক জনাব আলী বলেন, লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বিদ্যালয় ভবন কাম বন্যাশ্রয় কেন্দ্র স্থাপনের জন্য উপজেলা থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

×