রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, আশ্রয়কেন্দ্রে সাড়ে ৩ হাজার মানুষ
পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। ছবি-সমকাল
রাঙামাটি অফিস
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ১৮:২৮ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬ | ১৮:৩৪
টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অন্তত ৩৭০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য জেলার ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৫২৪ জন মানুষ অবস্থান করছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলা। এছাড়া জুরাছড়ি উপজেলার মৈদং, জুরাছড়ি সদর ও বনযোগীছড়া ইউনিয়ন, বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা এবং বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চলেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত রাঙামাটিতে ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও শুক্রবার সকাল থেকে ভারী বৃষ্টি হয়নি, তবে উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বাড়ছে। বর্তমানে হ্রদের পানির উচ্চতা ৯০ দশমিক ৩১ ফুট (মিন সি লেভেল), যেখানে এ সময় রুলকার্ভ অনুযায়ী থাকার কথা ৮৫ দশমিক ৪৪ ফুট। হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৮ ফুট (মিন সি লেভেল)।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে শুক্রবার পাঁচটি ইউনিট চালু রেখে ১৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলার ১০ উপজেলায় মোট ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৫২৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয় নেওয়াদের মধ্যে রাঙামাটি সদরে ৫০৮ জন, কাউখালীতে ১১৫ জন, কাপ্তাইয়ে ১৯৮ জন, বাঘাইছড়িতে ২ হাজার ৩৬৬ জন, রাজস্থলীতে ৪৮ জন, নানিয়ারচরে ৩৩ জন, বিলাইছড়িতে ১২২ জন, বরকলে ১১৮ জন এবং জুরাছড়িতে ১৬ জন রয়েছেন।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের তিন বেলা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পানিবন্দি পরিবারগুলোর কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।