দুই দিন পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
চন্দনাইশে পানিবন্দি অর্ধলাখ মানুষ
রেললাইন পানিতে ডুবে থাকায় আটকা পড়ে ঢাকা ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন। ছবিটি বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের মুরাপুর এলাকা থেকে তোলা
চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ১৭:৫৯
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে। উপজেলার দুই পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তবে শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কমে আসায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এদিকে দুই দিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি ও মৎস্য বিভাগ এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদের পানি বেড়ে গিয়ে ধোপাছড়ি, দোহাজারী, বরমা, বৈলতলীসহ বিভিন্ন এলাকার লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এতে উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।
বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হাশিমপুর অংশে প্রায় দেড় ফুট উঁচু দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। বর্তমানে সড়ক থেকে পানি কিছুটা নেমে গেলেও ছোট যানবাহনের চলাচলে এখনো ভোগান্তি রয়েছে। বড় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
বন্যার কারণে বুধবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের ওপর পানি উঠে যায়। কোথাও কোথাও গাছ উপড়ে পড়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার ইকবাল হোসেন চৌধুরী সমকালকে বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে এ পথে ট্রেন চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়েছে।
বন্যায় কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আজাদ হোসেন বলেন, প্রায় ২ হাজার ২০০ হেক্টর আউশ ধান, ৯০০ হেক্টর সবজির ক্ষেত এবং ৭০ হেক্টর পেঁপের বাগান পানিতে তলিয়ে গেছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করছেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহসান বলেন, বন্যার পানিতে উপজেলার প্রায় ৫০০টি পুকুর ও মৎস্য প্রকল্প তলিয়ে গেছে। এতে মাছ ভেসে যাওয়ায় খামারিদের প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ধনারপাড়া এলাকার মাছচাষি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, তার তিনটি পুকুরে থাকা প্রায় ৮০ মণ মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।
হাশিমপুর বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. নাজিম উদ্দীন বলেন, বুধবার সন্ধ্যার পর মহাসড়কের ওপর দিয়ে প্রায় দেড় ফুট উঁচুতে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। এখন পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।
ধোপাছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আবদুল মান্নান রানা বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানিতে খানহাট-ধোপাছড়ি-বান্দরবান সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও ধস দেখা দিয়েছে। ফলে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উপজেলায় ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। দুর্গত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে এবং ১২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বন্যার পানিতে অন্তত আটটি মাটির ঘর ধসে পড়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।