ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ছয় মাসে শেষ ৩২ লাখ টাকার উন্নয়ন

ছয় মাসে শেষ ৩২ লাখ টাকার উন্নয়ন
×

টমটম উল্টে বিপাকে যাত্রী। নবীগঞ্জ-কাজিরবাজার সড়ক সমকাল

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ-কাজিরবাজার সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ৬ মাসের মাথায় তা ফের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার করা হলেও বর্তমানে পিচ, কার্পেটিং ও খোয়া উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজের কারণেই আজ সড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বড় বড় গর্তে কাদা-পানি জমে ডোবায় রূপ নেয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক থেকে শুরু করে মালবাহী ট্রাক–সব ধরনের যানবাহনই এখানে এসে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। রাতে উল্টে যাচ্ছে ছোট যানবাহন, বিকল হচ্ছে পণ্যবাহী গাড়ি। চাকা বা এক্সেল ভেঙে যাওয়া এখানে নিত্যদিনের চিত্র।
বেহাল সড়কটির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে একদিকে পরিবহন খরচ বাড়ছে কয়েক গুণ, অন্যদিকে সময়মতো পণ্য বাজারে পৌঁছাতে না পেরে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান স্বপন বলেন, সড়কটির করুণদশা এই এলাকার বাণিজ্যিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। মালবাহী গাড়িগুলো এই রাস্তায় আসতে চায় না। এলেও ভাড়া দিতে হয় দ্বিগুণ। রহিম আলী নামে আরেক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ছয় মাস আগের সংস্কারকাজ, এখন দেখলে মনে হয় ৬ বছরেও সংস্কার হয়নি। সড়কটি দেখে বোঝার উপায় নেই যে কিছুদিন আগে এখানে কাজ হয়েছিল।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন ছুবা বলেন, কেবল জোড়াতালি বা দায়সারা মেরামতের দিন শেষ। সড়কটির টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন আধুনিক প্রকৌশলগত সমাধান ও কঠোর মনিটরিং। প্রশাসন যদি এখনই বড় কোনো উদ্যোগ না নেয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে এখানে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মীর সাব্বির আহমদ বলেন, নবীগঞ্জ-কাজিরবাজার-মাকুলী সড়কের উন্নয়নকাজ গত বছর ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন করে গাড়ি চলাচলের উপযোগী করা হয়েছিল। ৬ মাস না যেতেই তা ভেঙে আবার চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নতুন করে পরিমাপ (মাপজোখ) করে পুনরায় টেন্ডারের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির স্থায়ী সমাধানের জন্য এবার প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার বাজেট ধরা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন করে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আর কোনো আশ্বাস চান না; স্থায়ী মুক্তি চান।
 

আরও পড়ুন

×