ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ, আমানত ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ

প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ, আমানত ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ
×

আমানত ফেরতের দাবিতে নওগাঁয় ‘সমতা’র পরিচালক শাহিনুর রহমান শাহীনের বাসভবনের সামনে গতকাল শনিবার বিক্ষোভ গ্রাহকদের সমকাল

 নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

নওগাঁয় সমতা ও নেসডো নামে দুটি প্রতিষ্ঠানে জমা রাখা আমানতের অর্থ ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ, অর্থ ফেরত না দিয়েই প্রতিষ্ঠান দুটো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয়ের টাকা ও লভ্যাংশ না পেয়ে তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। 

গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার খলিশাকুড়ী গ্রামে প্রতিষ্ঠান দুটোর প্রধান কার্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শাহিনুর রহমান শাহীনের বাসভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক গ্রাহক অংশ নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে নওগাঁ সদর থানা পুলিশের সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন। 
বিক্ষোভ চলাকালে গ্রাহকদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় শাহিনুর রহমান শাহীন বলেন, প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৮০ কোটি টাকার আমানত 
রয়েছে। ২০২৫ সালে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের অর্থ ও লভ্যাংশ পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় সচল করা গেলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে অর্থ পরিশোধের চেষ্টা করা হবে।

আমানতকারীদের দাবি, প্রকৃত আমানতের পরিমাণ পরিচালকের উল্লেখিত অঙ্কের চেয়েও অনেক বেশি। তাদের ভাষ্য, দুই প্রতিষ্ঠানে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার আমানত থাকতে পারে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংস্থা দুটির ২০টি শাখার মাধ্যমে জেলাজুড়ে দেড় হাজারের বেশি গ্রাহকের কাছ থেকে সঞ্চয়, ডিপিএস ও এফডিআরের নামে উচ্চ মুনাফার আশ্বাসে আমানত সংগ্রহ করা হয়। পরে হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীদের অনেকেই আত্মগোপনে চলে যান। ফলে আমানতকারীরা তাদের অর্থ ফেরত না পেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন।
এ বিষয়ে পরিচালক শাহিনুর রহমান দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকটের কারণে গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর সুযোগ পেলে তিনি পর্যায়ক্রমে সব আমানত পরিশোধ করবেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতি এক লাখ টাকা আমানতের বিপরীতে মাসে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত মুনাফা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। এ লোভনীয় প্রস্তাবে অনেকেই জমিজমা বিক্রি করে, বসতবাড়ি বন্ধক রেখে কিংবা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রতিষ্ঠানে টাকা জমা করেন। 
নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি ফাস্টফুডের দোকানের মালিক কোরবান আলী বলেন– আমি, আমার স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে প্রায় ১৫ লাখ টাকা জমা রেখেছিলাম। নিয়মিত মুনাফা পাওয়ায় বিশ্বাস করে ধাপে ধাপে আরও টাকা জমা করি। এখন ব্যবসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। নিজের টাকাই ফেরত পাব কিনা, সেই অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে।
মান্দা উপজেলার রামপুর গ্রামের আমানতকারী জুয়েল রানা বলেন, বেশি লাভের আশায় নয়, নিরাপদ মনে করেই কষ্ট করে জমানো টাকা এখানে রেখেছিলাম। এখন সেই টাকা ফেরত না পেয়ে পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। 
নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রাহকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শাহিনুর রহমান শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ রোববার তাঁকে আদালতের পাঠানো হবে। বিক্ষোভের খবর পেয়ে নওগাঁ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নূরে আলম সিদ্দিকী গিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তির আশ্বাস দেন। পরে শাহিনুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
কর্মসূচি শেষে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা দ্রুত আমানতের অর্থ ফেরত, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার দাবিতে নওগাঁর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন।

আরও পড়ুন

×