ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ভৈরবে অর্ধশতাধিক পুরোনো ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা

ভৈরবে অর্ধশতাধিক পুরোনো ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা
×

পাইলিংয়ের কম্পনে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রোববার রাতে ধসে পড়ে পুরোনো ভবনের একাংশ। পৌর শহরের দুধবাজার এলাকা থেকে তোলা সমকাল

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ১০ তলা ভবন নির্মাণের পাইলিংয়ের কম্পনে ধসে পড়েছে শতবর্ষী এক জরাজীর্ণ ভবনের পুরো বারান্দা। গত রোববার রাত ৯টার দিকে পৌর শহরের দুধবাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নিচে থাকা ব্যবসায়ীরা। এদিন বাজার বন্ধ থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এই ভবন ধসের ঘটনায় নতুন করে উপজেলা শহরের অর্ধশতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। 

দুর্ঘটনাকবলিত ভবনটি অন্তত শত বছর আগে নির্মিত। সেটির বর্তমান মালিক তারেক মিয়াকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। দুধবাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভৈরব বাজারে নতুন বিল্ডিং তৈরির সময় পাইলিংয়ের কাজ করা হলে ঝাঁকুনিতে নতুন ভবনই কেঁপে ওঠে। পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো আরও ঝুঁকিতে পড়ে। তারেক মিয়ার ভবনের ২০ ফুট দূরে ১০ তলাবিশিষ্ট একটি নতুন ভবন নির্মাণের পাইলিং চলছে। এর কম্পনে রোববার দুপুরে তারেক মিয়ার ভবনের বারান্দার একটি দেয়াল ভেঙে পড়ে। পরে রাত ৯টার দিকে পুরো বারান্দা ভেঙে পড়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভৈরবে ৮০-১০০ বছর বয়সী ভবন রয়েছে অর্ধশতাধিক। পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক নোটিশ দিলেও কর্ণপাত করেনি এসব ভবনের মালিকপক্ষ। বছরের পর বছর ধরে এসব ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের কেউ ভাড়া নিয়ে গুদাম করছেন, কেউ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এসব ভবনের নিচতলায়ও একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে। 
শহরের দুধবাজার, নদীরপাড়, হলুদপট্টি, রানীর বাজার, চকবাজার, নতুনগল্লি, লোহাপট্টি, টিনপট্টিসহ বাজার এলাকায় নদীতীরঘেঁষা এলাকায় এসব ভবনের সংখ্যা বেশি। বাজারে প্রতিদিন শত শত মানুষ আসা-যাওয়া করেন। তবে বুধবারের সাপ্তাহিক হাটে কয়েক হাজার মানুষের আনাগোনা থাকে। ঝুঁকি নিয়েই তারা কেনাকাটা করেন।
দুধবাজার এলাকার নজরুল ইসলামের ভাষ্য, একাধিকবার স্থানীয় লোকজন পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অপসারণে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করে পৌর প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। তারেক মিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পাশে একটি নতুন ভবনের পাইলিংয়ের কাজ চলছে। পাইলিংয়ের কম্পনে তারা আতঙ্কিত ছিলেন। রোববার অল্পের জন্য একজন ব্যবসায়ী বেঁচে যান। অন্য ব্যবসায়ীরাও কোনোমতে রক্ষা পান। শহরের চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অপসারণে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পৌর প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তিনি। 

ভৈরব বাজার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. আল আমিন বলেন, রোববারের দুর্ঘটনার খবর পেয়েই তারা ঘটনাস্থলে যান। ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ উপলক্ষে দুই মাস আগে অর্ধশতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণে পরামর্শ দেন। এসব ভবনের কারণে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের জীবন ঝুঁকিতে আছে। 
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সারোয়ার বাতেন বলেন, ভৈরব শহরে অর্ধশতাধিক শতবর্ষী ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৭টি ভবন মালিককে অপসারণে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ভবন মেরামত করতে বলা হয়েছে। মেরামত না হলে ভবনগুলো পৌর কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় প্রথমে নোটিশ ও পরে নিয়ম মেনে ভেঙে ফেলবে। 
পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা ইউএনও কে. এম মামুনুর রশীদ বলেন, এক সপ্তাহ আগেও ভৈরব বাজারে বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মালিককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ভবনগুলো বাজার এলাকায়। রোববার বন্ধের দিন হওয়ায় বাজারে মানুষের যাতায়াত কম ছিল। তাই ভাগ্য ভালো ওই ভবনের দেয়াল ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এখন আর মালিকপক্ষকে সুযোগ দেওয়া হবে না। পৌর প্রশাসন ভেঙে যাওয়া ভবনসহ ঝুঁকিপূর্ণ সব ভবন অপসারণে ব্যবস্থা নেবে। 

আরও পড়ুন

×