ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বন্যার ক্ষতচিহ্ন

ঘরবাড়ি ও সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, সংকটে কৃষক

ঘরবাড়ি ও সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, সংকটে কৃষক
×

মনু নদের তীর রক্ষা বাঁধ ভেঙে প্লাবিত মৌলভীবাজারের ইসলামপুর গ্রাম সমকাল

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০৮ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৫৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

মৌলভীবাজারে মনু ও ধলাই নদীর পানি কমতে শুরু করলেও ভেসে উঠছে বন্যার ক্ষতচিহ্ন। বানের পানির স্রোতে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে গ্রামীণ সড়ক, ধসে পড়েছে ঘরবাড়ি এবং তলিয়ে গেছে শত শত হেক্টর ফসলি জমি ও আমনের বীজতলা। এতে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন বহু মানুষ। বিশেষ করে জেলার রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের বাসিন্দা ও কৃষকেরা এখন মহাদুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, নদী দুটির একাধিক স্থানে বাঁধ ভেঙে রাজনগর ও কমলগঞ্জের শতাধিক গ্রামের ৬ হাজারেরও বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৯ জুলাই ভোরে রাজনগরের উজিরপুর গ্রামের বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। ওই গ্রামের বাসিন্দা মুক্তার মিয়া জানান, বাঁধ ভেঙে অনেকের ঘরবাড়ি ভেসে গেছে, নষ্ট হয়েছে বীজতলা ও আউশ ফসল। এখন ঘর মেরামত করবেন, না ফসল–এ চিন্তায় ঘুম নেই তাঁদের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, বন্যায় আমন, আউশ ও সবজি চাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ৮৬ দশমিক ৫০ হেক্টর জমির আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। আর্থিক সংকট ও বীজের অভাবে অনেক জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। এছাড়া ২৪৮ হেক্টর আউশ জমি এবং ৬৪ দশমিক ৫০ হেক্টর জমির সবজি বিনষ্ট হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বড় অংশই হয়েছে রাজনগরের কামারচাক, টেংরা, মনসুরনগর এবং কমলগঞ্জের ইসলামপুর, পতনঊষার ও আদমপুর ইউনিয়নে। তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় ক্ষতি কিছুটা কম হয়েছে। 

এদিকে বন্যাপরবর্তী সড়ক ও ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও ভয়াবহ। রাজনগর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল গণি জানান, উপজেলায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মেরামতে অন্তত ৩০ কোটি টাকা প্রয়োজন। এখনও কিছু রাস্তা জলমগ্ন থাকায় চূড়ান্ত পরিসংখ্যান পেতে সময় লাগবে। রাজনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজু পাল জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল শিকদার ৩ হাজার পরিবার বন্যাকবলিত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, কমলগঞ্জের ইউএনও মো. আছাদুজ্জামান জানান, ধলাই নদীর ভাঙন দিয়ে পানি ঢুকে ইসলামপুর, পতনঊষার ও আদমপুর ইউনিয়নের ৩০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×