ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

এক বছরে প্রি-কেস আবেদন বেড়েছে ৯৮১ শতাংশ

এক বছরে প্রি-কেস আবেদন বেড়েছে ৯৮১ শতাংশ
×

 সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০৯ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাধ্যতামূলক প্রি-কেস মেডিয়েশন (মামলা পূর্ব বিরোধ মীমাংসা) চালুর পর সুনামগঞ্জে আইনি সেবা ও বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে প্রি-কেস আবেদনের সংখ্যা প্রায় ৯৮১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে আপসে আর্থিক আদায়ের পরিমাণ প্রায় ১৩ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকায়।

গতকাল সোমবার বিকেলে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক সভায় এ তথ্য জানান জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিভিল জজ মোহাম্মদ জুনাইদ।

তিনি জানান, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর মাধ্যমে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বাধ্যতামূলক প্রি-কেস মেডিয়েশন চালু হয়। এরপর থেকেই বিরোধ নিষ্পত্তিতে এ ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

গত এক বছরে (জানুয়ারি-জুন ২০২৫ থেকে জানুয়ারি-জুন ২০২৬) প্রি-কেস আবেদন ১৭১টি থেকে বেড়ে হয়েছে ১,৮৪৯টি (প্রবৃদ্ধি ৯৮১ শতাংশ)। প্রি-কেস মীমাংসা ৭৯টি থেকে বেড়ে হয়েছে ২৬৬টি (প্রবৃদ্ধি ২৩৬ শতাংশ)। আপোষে আর্থিক আদায় দুই লাখ ৯০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকা (প্রবৃদ্ধি ১২২৩ শতাংশ)। সরকারি আইনি সহায়তা গ্রহীতা ১৫৭ জন থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৪৬ জন (প্রবৃদ্ধি ৩৭৫ শতাংশ)। আইনি পরামর্শ গ্রহীতা ৬২০ জন থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৫৭ জন (প্রবৃদ্ধি ২২ শতাংশ)।

সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ৩টি থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৬টি (প্রবৃদ্ধি ১৪৩৩ শতাংশ)। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ৭৭ জন থেকে বেড়ে হয়েছে ১৯৯৫ জন (প্রবৃদ্ধি ২৪৯০ শতাংশ)। মোট উপকারভোগী ৬৩৯ জন থেকে বেড়ে হয়েছে ২,৫১৩ জন (প্রবৃদ্ধি ২৯৩ শতাংশ)। মোট নিষ্পত্তি ১৮৫টি থেকে বেড়ে হয়েছে ১,৮৩২টি (প্রবৃদ্ধি ৮৯০ শতাংশ)।

সভায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার স্পষ্ট করেন, ‘অনেকে মনে করেন লিগ্যাল এইড অফিসের আপসনামা কেবলই একটি অনানুষ্ঠানিক বোঝাপড়া, এর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, আইনগত সহায়তা প্রদান আইন অনুযায়ী এ আপোষনামা আদালতের ডিক্রির সমমর্যাদা লাভ করে এবং এটি আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য একটি দলিল।’

তিনি আরও জানান, কোনো পক্ষ এ আপসনামা অমান্য করলে অন্য পক্ষ সরাসরি আইনি প্রতিকার পাবেন। এ ছাড়া মীমাংসা চলাকালীন কোনো পক্ষের স্বার্থ বা সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তাৎক্ষণিক অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ারও সুযোগ রয়েছে।

টেবিলে বসে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করায় নাগরিকদের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে। এর ফলে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক যেমন অটুট থাকছে, তেমনি আদালতের ওপর মামলার জটও কমছে।
সিভিল জজ মোহাম্মদ জুনাইদ বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু মামলার সংখ্যা কমানো নয়, বরং মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও কার্যকর ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়া।

আরও পড়ুন

×