বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পুনর্বাসন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার: প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ১১:৪২ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ১৭:৩০
কক্সবাজারে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুনর্বাসন কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সোমবার দিবাগত রাতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের ১০ উপজেলার মধ্যে পাঁচটি উপজেলা বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই কক্সবাজারসহ বন্যাকবলিত জেলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর বিভাগীয় কমিশনারের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। পরে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পরিদর্শনের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির বাস্তব চিত্র মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, গত সাত থেকে আট দিনে কক্সবাজারে ৮০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যেখানে পুরো জুলাই মাসে গড়ে প্রায় ৯০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। অল্প সময়ে অস্বাভাবিক এ বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল এবং বঙ্গোপসাগরের বিরূপ আবহাওয়ার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের তথ্য ও প্রতিবেদন মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতি, সরকারের সহায়তার অগ্রগতি এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোথাও জরুরি সহায়তার প্রয়োজন হলে তা দ্রুত নিশ্চিত করা হবে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা এবং জেলার ১০ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।