শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাজশাহীতে ৪ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ
দাবি না মানলে শিক্ষা বোর্ড ঘেরাওয়ের ঘোষণা পরীক্ষার্থীদের
ছবি: সমকাল
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১৯:২১
বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ এবং নতুন করে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে রাজশাহীতে চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুর ২টার পর থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট পর্যন্ত নগরীর তালাইমারী মোড়ে এই কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। দাবি মেনে নেওয়া না হলে বৃহস্পতিবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন পরীক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে তালাইমারী মোড় দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পথচারীরা হেঁটে তালাইমারী মোড় পারাপার করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বেলা ২টার পর থেকে বরেন্দ্র কলেজ, মসজিদ মিশন একাডেমিসহ ১০ থেকে ১২টি কলেজের শিক্ষার্থীরা তালাইমারী মোড়ে অবস্থান নেন। পরে তাঁরা মোড়ের চারদিকের সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) রুয়েট গেটে অবস্থান নিয়ে যানবাহন থামিয়ে ফেরত পাঠায়। ফলে সড়কের উভয় পাশে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি দেখা দেয়। অনেকেই হেঁটে তালাইমারী মোড় পার হয়ে অন্য যানবাহনে ওঠেন। এ সময় বাস-ট্রাক ও অন্যান্য দূরপাল্লার যানবাহন বাইপাস সড়ক দিয়ে চলাচল করেছে। পরে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
আন্দোলনরত বরেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী আনাস রহমান বলেন, আমাদের পরীক্ষার রুটিন পুনর্বিন্যাস চাই। নতুন রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে হবে। একই সঙ্গে এই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও নিশ্চিত করতে হবে।
মসজিদ মিশন কলেজের শিক্ষার্থী আল জাওয়াদ নাহিয়ান বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রামের হাজার হাজার ভাই-বোন বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষা দিতে পারেননি। অথচ শিক্ষামন্ত্রী আমাদের ব্যঙ্গ করে ‘ফার্মের মুরগি’ বলেছেন। আমরা তাঁর এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি এবং অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগ দাবি করছি।
বরেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শান্ত বলেন, আমরা ইচ্ছা করে রাজপথে নামিনি, আমাদের বাধ্য করা হয়েছে। ভুল প্রশ্নপত্র এবং আবহাওয়াজনিত সংকটের পরও পরীক্ষা নিয়ে আমাদের মানসিক চাপে রাখা হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত আমাদের দাবি মেনে নিন, অন্যথায় ছাত্রসমাজ আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেবে।
রুয়েট গেট এলাকা থেকে অটোরিকশাচালক আতাউর রহমান সমকালকে বলেন, আমরা শহরের দিকে যেতে পারছি না। আমাদের গাড়ি রুয়েট গেটে আটকে দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ পাশের গলি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তবে বেশিরভাগই ফিরে যাচ্ছে। এতে আমাদের আয় যেমন কমছে, তেমনি পথচারীদেরও ভোগান্তি হচ্ছে।
নগরীর সাহেববাজার এলাকায় যাচ্ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক বেলাল হোসেন। অক্ট্রয় মোড়ে এসে তাঁর গাড়ি আটকে গেলে গাড়ি থেকে নেমে যেতে হয় তাঁকে। পরে তিনি হেঁটেই নগরীর দিকে রওনা দেন।
তিনি বলেন, বিকেলের ব্যস্ত সময়ে এভাবে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করা মোটেও ইতিবাচক নয়। এ সময় সাধারণ মানুষের জরুরি প্রয়োজনে শহরে যাওয়ার দরকার হয়। কিন্তু এমন অবরোধ সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টদায়ক। সব পক্ষেরই দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।
সড়কে দায়িত্ব পালন করা মতিহার থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মনিরুল ফেরদৌস সমকালকে বলেন, বেলা ২টার পর থেকেই তালাইমারী মোড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন। তাঁদের কর্মসূচির কারণে এই সড়ক দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। পরে সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।