পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, ঝুঁকিতে ৫ লাখ মানুষ
কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী শিকড়িয়া এলাকার মনু নদ প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙা অংশে স্থানীয়দের সাঁকো নির্মাণ সমকাল
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩৫ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১১:৪০
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুলাউড়া উপজেলায় মনু নদ প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ চলছে পাঁচ বছর ধরে। তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাধায় এর চারটি অংশের সংস্কার কাজ থমকে আছে। ফলে অরক্ষিত এই বাঁধ নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা।
জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া, রাজনগর ও সদর উপজেলায় হাজার কোটি টাকার এই বৃহৎ প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ শেষ হওয়ায় প্রায় ৫ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হয়েছে। তবে কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফের বাধায় বেড়িবাঁধের কাজ বন্ধ থাকায় ঝুঁকিতে রয়েছেন নদতীরবর্তী ৪টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভারতের ত্রিপুরা থেকে উৎপন্ন মনু নদের অবস্থান সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় দুই দেশের নদী সুরক্ষাবিষয়ক জটিলতার কারণে কাজের গতি মন্থর হয়েছে। যথাসময়ে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় চলতি বর্ষায়ও কুলাউড়া, রাজনগর ও সদর উপজেলা বন্যার কবলে পড়েছে।
গত ৮ জুলাই গভীর রাতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকড়িয়া এলাকায় ২০২৪ সালের বন্যার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে ফের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে শিকড়িয়া, আলীনগরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে শতাধিক পরিবার ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছে। যাতায়াতের জন্য স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য তাহির আলী, ফয়জুল হক ও মখলিছ মিয়া জানান, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার পৃথিমপাশা, টিলাগাঁও, হাজীপুর ও শরীফপুর ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। রাজাপুর, বেলরতল ও ছৈদল এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোর কাজ ঠিকাদারদের গড়িমসি, জমি অধিগ্রহণ ও সময়মতো অর্থ ছাড় না হওয়ায় বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া শিকড়িয়া, নিশিন্তপুর, তেলিবিল ও দত্তগ্রাম এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত অংশের সংস্কার আটকে থাকায় আতঙ্ক কাটছে না।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কথা বলেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম। তিনি দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবি করেন।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলিদ জানান, বন্যা ও ভাঙন থেকে কুলাউড়াকে রক্ষা করতে ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ৩০৭ কোটি টাকার এ প্রকল্প শুরু হয়, যার সার্বিক অগ্রগতি এখন পর্যন্ত ৮০ শতাংশ। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী শরীফপুর ইউনিয়নের ৪টি স্থানে মোট এক হাজার ৪০০ মিটার অংশে বিএসএফের বাধার মুখে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এ বিষয়ে ২০২৩ সালে যৌথ নদী কমিশনের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিতে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। দুই দেশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা চলমান। তবে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো মেরামতে কর্মীরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, মনু নদের এই বৃহৎ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে জেলা উন্নয়ন সভায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএসএফের বাধার বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবার ও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, সীমান্তবর্তী শিকড়িয়া ও দত্তগ্রামে মনু নদের বেড়িবাঁধের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মাটি ভরাট কাজে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদারকে বিজিবি সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
- বিষয় :
- বাঁধ
- কুলাউড়া
- মৌলভীবাজার
- পাউবো
- বিএসএফের গুলিতে নিহত
- বিজিবি