ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

মশা-পোকার দখলে আবাসিক হল

মশা-পোকার দখলে  আবাসিক হল
×

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে সম্প্রতি মশারি টানিয়ে পড়ছেন এক ছাত্রী সমকাল

সিনথিয়া ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান হলের একটি কক্ষে বই খুলে বসেছেন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হিমা। সামনে পরীক্ষা, হাতে নোট। পড়ায় মন বসছে না। এক হাতে বই, অন্য হাতে মশা তাড়ানোর যুদ্ধ। কিছুক্ষণ পর কয়েল জ্বালিয়েও স্বস্তি না পেয়ে মশারির ভেতর বসেই পড়াশোনা শুরু করেন। ঘরের আলো ঘিরে উড়ছে অসংখ্য ছোট ছোট পোকা। বই, খাতা, এমনকি মুখের ওপর এসে পড়ছে তারা।

শুধু হিমাই নন। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে আবাসিক হল, টুকিটাকি চত্বর, পরিবহন মার্কেট, আমতলাসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় মশা ও উড়ন্ত পোকার দৌরাত্ম্য। গরম ও বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ঘুম, এমনকি স্বাভাবিক জীবনযাপনও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মন্নুজান হলের নিচতলার আবাসিক শিক্ষার্থী ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের হাবিবা আক্তার বলেন, ‘মশার কারণে ঠিকমতো কোনো কাজ করা যায় না। উড়ন্ত তেলাপোকা শরীরে এসে পড়ে, অনেক সময় খাবারের ওপরও বসে। কয়েকদিন আগে একটি পোকা কামড় দেওয়ার পর আমার হাত ফুলে যায়।’ একই হলের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার রিমা বলেন, ‘ফাইনাল পরীক্ষার সময় রাতে ঘুমের মধ্যে পোকা গলায় কামড় দেয়। পরে সেখানে পোড়া দাগের মতো ক্ষত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে মলম ব্যবহার করছি, ইনজেকশনও নিতে হয়েছে।’
মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রিফা রাফিয়া বারী বলেন, ‘এক রাতে একটি বড় পোকা কক্ষে ঢুকে সারারাত শব্দ করেছে। ঘুমাতে পারিনি। মশার কারণে তো প্রতিদিনই কষ্ট হয়।’ তাপসী রাবেয়া হলের শিক্ষার্থী রত্না রানী বলেন, ‘মশার পাশাপাশি ছোট ছোট উড়ন্ত তেলাপোকার উপদ্রবও বেড়েছে। অনেক সময় হলের কক্ষে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে।’
মন্নুজান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আশীয়ারা খাতুন বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করেন। ময়লার ডাস্টবিন অপসারণ এবং হলসংলগ্ন ঘাসও নির্দিষ্ট সময় পরপর পরিষ্কার করা হয়। এরপরও কোথাও সমস্যা থাকলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ফগিং করা হয় কিনা, সর্বশেষ কবে ফগিং করা হয়েছে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ড. শাহ্ হোসাইন আহমদ মাহদী বলেন, সব আবাসিক হলে নিজস্ব ফগার মেশিন নেই। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি ১৫ দিন পরপর হলে ফগিং করার কথা থাকলেও মশকনাশক ও প্রয়োজনীয় ওষুধের উচ্চমূল্য এবং সীমিত বাজেটের কারণে তা সবসময় করা সম্ভব হয় না। 

কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম ফারুকী বলেন, উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। শুধু ফগিং করে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভা নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সচেতনতাও জরুরি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান চিকিৎসক লুমান মঞ্জুর বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ডেঙ্গু। বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ডেঙ্গু শনাক্তে পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
উপ-উপচার্য (প্রশাসন) ড. মো. আব্দুল আলিম বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসে নিয়মিত ফগিং, ড্রেন পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×