খসছে পলেস্তারা, ক্লাসে আতঙ্ক
রাজবাড়ী শহরের শহীদ স্মৃতি স্টেডিয়াম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ধসে পড়া ছাদের পলেস্তারা সমকাল
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজবাড়ী শহরের স্টেডিয়াম-সংলগ্ন শহীদ স্মৃতি স্টেডিয়াম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলার দুটি শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। ক্লাস চলাকালে এ ঘটনা ঘটলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। তবে ইট-সুরকি পড়ে দুই শিক্ষার্থী সামান্য আহত হয়েছে। এর পর থেকে ঝুঁকিপূর্ণ দুটি কক্ষে পাঠদান বন্ধ রেখেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে কক্ষ সংকটে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে সুপেয় পানির সংকট, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ নানা সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলার দুটি কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে এসেছে। ইট-সুরকি ছড়িয়ে রয়েছে বেঞ্চের ওপর।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ১৩ জুলাই সকালে প্রথম শ্রেণির ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে ইট-সুরকির আঘাতে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়। এর পর ওই কক্ষে পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরদিন ১৪ জুলাই দুপুরে টিফিনের সময় পাশের আরেকটি কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। তখন সেখানে দুই ছাত্রী অবস্থান করছিল। যদিও কেউ গুরুতর আহত হয়নি। তবে ভবনটি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৮৮ সালে। এর পর আর কোনো বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। ভবনটির নিচতলায় তিনটি এবং
ওপরতলায় তিনটি কক্ষ রয়েছে। নিচতলায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, একটি লাইব্রেরি এবং একটি পরিত্যক্ত কক্ষ রয়েছে। দ্বিতীয় তলার তিনটি কক্ষের মধ্যে দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে বাকি কক্ষটিও বন্ধ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০০৯ সালে নির্মিত নতুন দ্বিতল ভবনে মাত্র তিনটি কক্ষ রয়েছে। বর্তমানে সেখানেই সব শ্রেণির পাঠদান চলছে। বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রথম শিফটে শিশু, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং দ্বিতীয় শিফটে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস হয়।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছালমা সুলতানা বলেন, পুরোনো ভবন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন ভবনের তিনটি কক্ষে সব শ্রেণির পাঠদান চালাতে হচ্ছে। চার ও পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের পৃথক দুটি শ্রেণি একত্র করা হয়েছে। শিশুদের ক্লাস শেষে একই কক্ষে বড়দের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। একটি কক্ষে মাত্র ৩০ জন বসার ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের বসতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা জানান, গত দুই বছরে অন্তত ১০ বার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে ১১টি সিলিং ফ্যান চুরি হয়েছে। নতুন টিউবওয়েল স্থাপন করলেও তা চুরি হয়ে যায়। স্কুল ছুটির পর বখাটেদের আড্ডাও বসে। তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে কোনো টিউবওয়েল নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারে না, এমনকি হাত-মুখ ধোয়ারও সুযোগ নেই। এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছালমা সুলতানা জানান, বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করা হলেও ত্রুটির কারণে এখনও সেটি হস্তান্তর হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ভবন সংস্কারের পাশাপাশি সুপেয় পানির ব্যবস্থা, শৌচাগারের সমস্যা সমাধান এবং বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার খবর পেয়ে একজন কর্মকর্তাকে পরিদর্শনে পাঠানো হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লিখিত প্রতিবেদন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তবিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- বিষয় :
- স্কুল