ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ধসে পড়ল একমাত্র ভবনের নিচতলার ছাদ

ধসে পড়ল একমাত্র ভবনের নিচতলার ছাদ
×

খুলনার কয়রা উপজেলার গাজী আব্দুল জব্বার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবনের নিচতলার ছাদ গত শুক্রবার দুপুরে ধসে যায় সমকাল

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনার কয়রা উপজেলার গাজী আব্দুল জব্বার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবনের নিচতলার ছাদ ধসে গেছে। গত শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে গোবিন্দপুর এলাকায় অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে বন্ধের দিন হওয়ায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ছাদ ধসে পড়ার পর গতকাল শনিবার থেকে ওই ভবনে পাঠদান ও অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত গাজী আব্দুল জব্বার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে এখানে ২৫০ জন শিক্ষার্থী আছে। শুরু থেকেই শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। শুরুতেই দুটি টিনশেডে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। ২০০১ সালে সেটি দুইতলায় উন্নীত করা হয়।
প্রতিষ্ঠানের পাশের এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার দুপুরের দিকে বিকট শব্দ শুনে তারা গিয়ে দেখেন ভবনের নিচতলার ছাদ ভেঙে পড়েছে। এ সময় তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি কলেজ শাখার ইসলামী শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক রবিউল ইসলামের দেওয়া তথ্যমতে, এলাকাবাসীর চেষ্টায় মাধ্যমিক থেকে উচ্চ ম্যাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত করা হলেও এখানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। যে কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও তুলনামূলক কম। একটি মাত্র পাকা ভবন হওয়ায় ঝুঁকি জেনেও দীর্ঘদিন সেখানেই দাপ্তরিক কার্যক্রম ও পাঠদান চলে আসছে। সেটির নিচতলার ছাদের একাংশ ধসে পড়ায় এখন সব কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পথে।

প্রধান শিক্ষক সাইফুল্লাহ হায়দার বলেন, গত শুক্রবার ছুটি থাকায় ওই ভবন ও আশপাশে কেউ ছিলেন না। যে কারণে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে আর কোনো পাকা ভবন না থাকায় সেখানেই ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পালাক্রমে পাঠদান চালিয়ে আসছিলেন। দ্বিতল ভবনে মোট ৮টি কক্ষের মধ্যে নিচতলার দুটি কক্ষে অফিস ও অন্য ছয়টি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। নিচতলার ছাদ ধসে পড়ায় সেখানে সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
একাডেমিক ভবনটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল উল্লেখ করে কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, সবাইকে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। ভবনটি শুক্রবার ধসে পড়ায় আপাতত সেখানে সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন ভবনের নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠদান ও দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু রাখতে বলা হয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×