ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

খুলনার চার প্রবেশদ্বার বেহাল

খুলনার চার প্রবেশদ্বার বেহাল
×

শিপইয়ার্ড সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রায় গাড়ির চাকা দেবে যায়। সম্প্রতি তোলা। ছবি: সমকাল

হাসান হিমালয়, খুলনা

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪২

রূপসা নদীপারের কোলাহলমুক্ত শহর হিসেবে সুনাম রয়েছে খুলনার। সুন্দরবনসহ দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্য ঘুরে দেখতে এ জেলায় আসে দেশ-বিদেশের মানুষ। কিন্তু পদ্মা সেতু হয়ে নগরে ঢুকতেই সেই সুনাম উবে যায়। ভাঙাচোরা প্রবেশপথে ঝাঁকি খেতে খেতে হয়রান হতে হয় যাত্রীদের। বের হতে গেলেও পড়তে হয় একই ভোগান্তিতে। 

বছরের পর বছর ধরে এই অবস্থা। সম্প্রতি বাস টার্মিনালের পাশের সবচেয়ে সহজ সংযোগ সড়কটিতে ইটের সারি (হেরিং বোন বন্ড) বসিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথটি পিচঢালা মসৃণ ছিল। ইটের সারি বসানোর ফলে ওই সড়কে এখন হেলেদুলে এবং ঝাঁকি খেয়ে চলতে হচ্ছে যাত্রীদের।

পদ্মা সেতুসহ দক্ষিণের অন্যান্য জেলা-উপজেলা থেকে খুলনা মহানগরীতে প্রবেশের জন্য পাঁচটি সড়ক রয়েছে। সড়কগুলো হলো রূপসা সেতু থেকে শিপইয়ার্ড, জিরো পয়েন্ট থেকে গল্লামারী হয়ে ময়লাপোতা, জয় বাংলার মোড় থেকে ময়ূরী সেতু হয়ে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল, মোস্তফার মোড় থেকে রায়ের মহল হয়ে বয়রা বাজার এবং শহর বাইপাস থেকে বিশেষায়িত হাসপাতাল সংযোগ সড়ক। এসব সড়ক খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

১৩ জুলাই এ সড়কের মাঝে ইজিবাইক উল্টে কয়েকজন যাত্রী আহত হন। এর দুই দিন আগে দুটি ট্রাক সড়কটিতে দেবে যায়। সড়কটি এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। সংস্কার কাজের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল সংযুক্ত শহর বাইপাস এবং সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল সংযোগ সড়ক বন্ধ রয়েছে। গল্লামারী মোড়ে সেতু নির্মাণের জন্য দুটি লেন বন্ধ থাকায় সারাদিনই যানজট থাকে। 

সচেতন নাগরিক কমিটির জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় সমন্বয়হীনতা এবং সংস্থাগুলোর উদাসীনতাই নাগরিকদের দুর্ভোগের জন্য দায়ী। প্রবেশপথের প্রতিটি সড়ক একাধিকবার সংস্কার করা হয়েছে। তার পরও কেন সড়কগুলো টিকছে না, কারা দায়ী খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তিন পথের করুণ অবস্থা

রূপসা সেতু থেকে শিপইয়ার্ড হয়ে রূপসা মোড় পর্যন্ত সড়কটি কেডিএর নিয়ন্ত্রণে। ২০২২ সালে সড়কটি প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়। অর্ধেক করে ফেলা রাখায় ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হয়েছে। ১০ মাস ধরে সড়কের কাজ বন্ধ। বৃষ্টিতে পানি জমে মাঝের গর্ত এখন ডোবায় রূপ নিয়েছে। ইজিবাইক উল্টানো, গাড়ির চাকা দেবে যাওয়া– এই সড়কের প্রতিদিনের ঘটনা।

কেডিএ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব সড়কটি দেখে গেছেন। তিনি প্রতিবেদন দিলে সংশোধিত প্রকল্প একনেকে উত্থাপন করা হবে। অনুমোদনের পর ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ শুরু হবে। আপাতত ইটের আধলা ফেলে গর্ত বন্ধ করে চলাচল উপযোগী করছি।

শহর (রূপসা সেতু) বাইপাস সড়ক থেকে জিরো পয়েন্ট দিয়ে গল্লামারী হয়ে নগরীতে প্রবেশ করা যায়। সড়কটি সওজের নিয়ন্ত্রণে। ময়ূর নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য সড়কের দুই লেন বন্ধ রয়েছে। সেখানে প্রতিদিনই তীব্র যানজট থাকে। একান্ত বাধ্য না হলে সবাই সড়কটি এড়িয়ে চলেন। সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হবে। তখন যানজট থাকবে না।

শহর বাইপাস থেকে বিশেষায়িত হাসপাতাল পর্যন্ত আরেকটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেছিল কেডিএ। দীর্ঘদিনের সংস্কারের অভাবে সড়কের মাঝে বড় ডোবার সৃষ্টি হয়েছে। গত বছর ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি পুনর্নির্মাণ শুরু করে কেসিসি। ধীরগতির কারণে অর্ধেক কাজও শেষ হয়নি। কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান জানান, সড়কের মাঝে গাছ ও বৃষ্টির কারণে কাজে ধীরগতি হয়েছিল। ঠিকাদারকে দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে।

বিটুমিনের সড়কেও ইটের সলিং

শহর বাইপাস থেকে জয় বাংলার মোড় হয়ে ময়ূরী সেতু অতিক্রম করে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে যুক্ত হয়েছে। সড়কটির শহর বাইপাস থেকে ময়ূরী ব্রিজ পর্যন্ত এক হাজার ৩০০ মিটার এলজিইডির নিয়ন্ত্রণে। ময়ূরী ব্রিজ থেকে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ৮০০ মিটার কেসিসির। কেসিসির অংশে তিন থেকে চার বছর ধরেই ইটের সলিং দিয়ে রাখা হয়েছে। বাকি অংশ ছিল বিটুমিনের। জুলাইয়ের শুরু থেকে বাকি অংশেও ইট বিছানো শুরু করে এলজিইডি।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সরদার জানান, সড়কটি মেরামত করেও টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। এ জন্য কংক্রিট হবে নাকি কাপের্টিং হবে– জানতে প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

×