পরিবেশ রক্ষায় আইনের চেয়ে সামাজিক সচেতনতা বেশি কার্যকর
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
বরিশালে ‘প্লাষ্টিক-পলিথিন দূষণ হ্রাসের মাধ্যমে সুন্দরবন সুরক্ষা’ বিষয়ক পরামর্শ সভায় বক্তারা বলেছেন, যে দেশে আইনের প্রয়োগ নেই সে দেশে নতুন নতুন আইন করে কিছুই হবে না। পরিবেশ রক্ষায় একমাত্র ভরসা সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা। এটা পরিবারের মধ্য থেকে সৃষ্টি করতে হবে। পরিবার থেকে শিশুকে সচেতনতার জ্ঞান দিয়ে বড় করতে হবে। ওই শিশুটি যদি বড় হয়ে খানিকটা সচেতন থাকে, তাহলেই পরিবেশ রক্ষা পাবে।
গতকাল বুধবার বরিশাল নগরের বিডিএস মিলনায়তনে উন্নয়ন সংগঠন রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহের সভাপতিত্বে দিনব্যাপী এ পরামর্শ সভা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল উপকূলীয় অঞ্চল বন সংরক্ষক ড. মোল্লা রেজাউল করীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আলাউদ্দিন।
বিভিন্ন নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সংগঠনের কর্মীরা এ পরামর্শ সভায় অংশগ্রহণ করে তাদের মতামত দেন।
বক্তারা বলেন, ২০০১ সালে আইন করে পলিথিন উৎপাদন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২৬ বছর পরও এ আইন কার্যকর হয়নি। ফলে পলিথিন ও প্লাষ্টিকের ব্যবহার বহুগুণ বেড়েছে। এখন আর কোনো আইনের প্রয়োজন নেই। আমাদের জীবনাচরণে পরিবর্তন আনতে সবাইকে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করতে হবে।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপকূলীয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল বলেন, আমরা অসচেতনভাবে নদী, খাল, ড্রেন যেখানেই প্লাষ্টিক কিংবা পলিথিন ফেলি না কেন, পানির স্রোতে সেগুলো গিয়ে ঠিকই সুন্দরবন এলাকার সাগরে পৌঁছায়। অতএব সুন্দরবনের ক্ষতি করতে সেখানে যেতে হয় না, সব স্থান থেকেই আমরা কমবেশি সুন্দরবনের ক্ষতি করছি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, পলিথিন ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে বাজারে গিয়ে বিনামূল্যে পাটের ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। পরদিন পর্যবেক্ষণে গিয়ে দেখা গেছে, সেই ব্যাগ কেউ ব্যবহার করছেন না। প্লাষ্টিকের ব্যাগ নিয়ে বাজারে গিয়েছেন। তাই পরিবেশ অধিদপ্তর আইনের প্রয়োগের চেয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
- বিষয় :
- পরিবেশ