ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

চণ্ডীপাশা সরকরি উচ্চ বিদ্যালয়

নতুন সীমানা প্রাচীরে বেহাত স্কুলের ৪০ লাখ টাকার জমি

নতুন সীমানা প্রাচীরে বেহাত স্কুলের ৪০ লাখ টাকার জমি
×

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

নান্দাইলে চণ্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরোনো সীমানা প্রাচীর থেকে এক-দেড় ফুট জায়গা ছেড়ে দিয়ে নতুন করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২-৩ শতাংশ জমি বেহাত হয়ে যাচ্ছে দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। যার বাজার মূল্য অন্তত ৪০ লাখ টাকা। তাদের মতে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ৪০ লাখ টাকার জমি ছেড়ে ৩২ লাখ টাকায় আরসিসি পিলার দিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছে।

নান্দাইল পৌর শহরের চন্ডীপাশা উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত। স্থানীয়দের দান করা ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ জমির ওপর গড়ে ওঠে বিদ্যালয়টি। ১৯৯১ সালের ১৯ মার্চ বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হয়। বিদ্যালয়ের দক্ষিণপাশ দিয়ে বয়ে গেছে নরসুন্ধা নদী। বাকি তিনপাশ সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা, রয়েছে দুটি সুদৃশ্য ফটক। উত্তর দিকে স্থানীয়দের বাসাবাড়ি লাগোয়া পুরোনো ৬৪২ ফুট দৈর্ঘ্যের সীমানা প্রাচীরটি ছিল নিচু। তাই সেখানে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে আরসিসি পিলারের ওপর উঁচু করে একটি সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ময়মনসিংহ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। কাজটি পায় মণিহার এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শ্রমিকরা প্রথমেই পুরোনো সীমানা প্রাচীরের ইট, পিলার ভেঙে ফেলেন। কিন্তু নিচের ভিত না ভেঙে তা থেকে এক-দেড় ফুট জায়গা ছেড়ে ভেতরের দিকে আরসিসি বিমের ওপর ৪২টি পিলার বসিয়ে নতুন প্রাচীর নির্মাণ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রায় ২-৩ শতক জায়গা অন্যেদের দখলে চলে যাবে যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। তাদের প্রশ্ন, ৪০ লাখ টাকার জায়গা ছেড়ে ৩২ লাখ টাকার প্রাচীরের কী দরকার ছিল?

গত মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, বেশ কয়েকজন শ্রমিক সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ করছেন। তবে পুরোনো সীমানা প্রাচীরের জায়গায় নয়, সেখান থেকে এক-দেড় ফুট জায়গা ছেড়ে ভেতরের দিকে। জানতে চাইলে কর্মরত শ্রমিকরা বলেন, তাদের যেখানে কাজ করতে বলা হয়েছে সেখানেই করছেন। বিয়ষটি নিয়ে কথা হয় বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক এবং শতবর্ষ বৃত্তি তহবিল কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান ফকিরের সঙ্গে। তাঁর ভাষ্য, জায়গা ছেড়ে প্রাচীর নির্মাণের ঘটনা সত্য হয়ে থাকলে সেটি অবশ্যই নিন্দনীয় এবং সমর্থনযোগ্য নয়। মাপজোক করে সঠিক জায়গায় প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানান তিনি। 

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন জানান, কর্তৃপক্ষ যেখানে জায়গা দেখিয়ে দিয়েছেন সেখানেই কাজ করছেন তারা।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাসনীম রেজা ছন্দ বলেন, প্রকৌশলী এসে ঠিকাদারের লোকজন নিয়ে মাপজোক করে প্রাচীর নির্মাণের জায়গা নির্ধারণ করে দিয়ে গেছেন। পুরোনো প্রাচীরের সঙ্গে স্থানীয়দের বাথরুমের ট্যাংকি, পাইপ থাকা এবং প্লাস্টারের সুবিধার্থে কিছুটা জায়গা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।
ময়মনসিংহ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী অরুন কুমার দাসের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যেখানে জায়গা দেখিয়ে দিয়েছেন, সেখানেই ঠিকাদার প্রাচীর নির্মাণ করছেন। ময়মনসিংহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহসিনা খাতুন জানান, প্রাচীর নির্মাণ করছে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ। তাদের প্রকৌশলী প্রধান শিক্ষককে নিয়ে যেখানে জায়গা দেখিয়ে দেবেন ঠিকাদার সেখানেই কাজ করবেন। জায়গা ছাড়তে যাবেন কেন? তবুও বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।

আরও পড়ুন

×