ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লায় পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতা: ৭ শিক্ষককে স্ট্যান্ড রিলিজ

কুমিল্লায় পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতা: ৭ শিক্ষককে স্ট্যান্ড রিলিজ
×

জলাবদ্ধ পরিবেশে চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যে কুমিল্লা মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া হয়। ছবি: সমকাল

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ১৫:০৩ | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ১৫:০৫

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে জলাবদ্ধ পরিবেশে চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টির পর পরীক্ষাকমিটিতে সম্পৃক্ত কলেজের সাতজন শিক্ষককে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। এদের নতুন কর্মস্থল কক্সবাজার, নোয়াখালী, সিলেট, বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলায়। 

গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ওই তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে সাত শিক্ষককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় একই তারিখ অপরাহ্ণ থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত মর্মে গণ্য হবেন।’

বদলি করা শিক্ষকদের মধ্যে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে, গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিনকে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়।

কলেজের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কলেজে একসঙ্গে এত শিক্ষকের বদলি এই প্রথম। জলাবদ্ধতার কারণ শুধু শিক্ষকদের ওপর দায় চাপিয়ে এমন বদলিকে ‘হয়রানিমূলক বদলি’ বলে অবহিত করে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষকরা। বদলিকৃত সাত শিক্ষকের মধ্যে দুইজন সরাসরি পরীক্ষা কমিটিতে সংশ্লিষ্ট না থাকলেও তাদের বদলি করা হয় বলে দাবি করা হয়। 

কলেজ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১০ মে এ কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলামকে বদলি করা হয়। নতুন করে বদলি করা সাত শিক্ষকদের মধ্যে উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম ও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারের ছেলে এই বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় বিধি মোতাবেক তারা পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা কমিটিতে ছিলেন না। তবে অপর ৫ শিক্ষক সরাসরি পরীক্ষা কমিটিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। 

এর আগে, গত ১৮ জুলাই দুপুরে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কলেজে যান। এই সময়ে তিনি কলেজে জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে তিনি সরকারের ও শিক্ষামন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বদলি হওয়া একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ জানিয়ে সমকালকে বলেন, এই কলেজে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পরীক্ষাকেন্দ্র আছে। ২ থেকে ৩ ঘণ্টার বৃষ্টিতে এই নগরী প্লাবিত হয়ে যায়। তাহলে জলাবব্ধতার দায় কি শুধু শিক্ষকদের। পরীক্ষার দিন বৃষ্টিতে পরীক্ষা চলবে কিনা এমন সিদ্ধান্ত বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। পরীক্ষা চলবে না বন্ধ হবে এমন সিদ্ধান্ত কেন্দ্র পরিচালনায় দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা এককভাবে দিতে পারেন না। এখনো পরীক্ষা শেষ হয়নি। তাই, এই সময়ে একসঙ্গে কলেজের ৭ সিনিয়র শিক্ষককে বদলি করার সিদ্ধান্ত অমানবিক।

কলেজ নতুন অধ্যক্ষ মোসাম্মৎ আমেনা বেগম আজ শুক্রবার সমকালকে বলেন, ‘আমি বুধবার এ কলেজে যোগদান করেছি। বৃহস্পতিবার বিকেলে শিক্ষকদের বদলির আদেশ জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবো না। তবে ভবিষ্যতে এ পরীক্ষা কেন্দ্রে আর যাতে জলাবদ্ধতা তৈরি না হয় এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ আজ দুপুরে সমকালকে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ বদলির আদেশে তো পরীক্ষা কেন্দ্রের অব্যবস্থাপনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। এমন বদলি সব সময়ই হয়ে থাকে। এ বদলির সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রের জলাবদ্ধতার বিষয়টি জড়িত কিনা বলতে পারবো না।’

গত ১৩ জুলাই সকালে অতিবৃষ্টির কারণে এ কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। তখন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু ছোট নৌকা, ভ্যানগাড়ি এনে পরীক্ষার্থীদের বিবেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে কলেজে পৌঁছান। কলেজের শিক্ষকেরাও ছাত্রীদের এগিয়ে নেন কেন্দ্রে। তখন কেউ কেউ পানি মাড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এ নিয়ে দৈনিক সমকালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র সংবাদের প্রকাশের পর সমালোচনার ঝড় উঠে। পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে কুমিল্লাসহ সারাদেশে পরীক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। এ কেন্দ্রে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের এক হাজার ৩০৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরে সমালোচনার মুখে কেন্দ্র স্থানান্তরের পর পরবর্তী পরীক্ষাগুলো নগরীর ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×