ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

৬২ বছরের সংগীতজীবনে প্রথম একক কনসার্ট, শিল্পকলায় সম্মাননায় সিক্ত রুনা লায়লা

৬২ বছরের সংগীতজীবনে প্রথম একক কনসার্ট, শিল্পকলায় সম্মাননায় সিক্ত রুনা লায়লা
×

সন্ধ্যা সাতটার দিকে মঞ্চে ওঠেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। ছবি: সমকাল

দ্রোহী তারা

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ২০:৩০ | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ২০:৩৭

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে শুক্রবার সন্ধ্যায় ছিল অন্য রকম এক আবহ। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই দর্শকে পূর্ণ হয়ে যায় মিলনায়তন। সবার অপেক্ষা ছিল এক কিংবদন্তির জন্য। সন্ধ্যা সাতটার দিকে মঞ্চে ওঠেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। তাকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান দর্শকেরা। দীর্ঘ করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এদিন রুনা লায়লাকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। একই মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় তার একক সংগীতানুষ্ঠান। দীর্ঘ ৬২ বছরের পেশাদার সংগীতজীবনে বিশ্বের নানা প্রান্তে অসংখ্য মঞ্চে গান গাইলেও শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে এটিই ছিল তার প্রথম একক কনসার্ট।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী রুনা লায়লার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এ সময় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মও উপস্থিত ছিলেন।

সম্মাননা গ্রহণের পর মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে ‘দেশের জন্য যারা দিয়ে গেছো প্রাণ’ গান দিয়ে পরিবেশনা শুরু করেন রুনা লায়লা। এরপর শোনান ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব’ এবং ‘যখন থামবে কোলাহল/ঘুমে নিঝুম চারপাশ’সহ তার জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি গান। পরিচিত গানে শিল্পীর সঙ্গে কণ্ঠ মেলান দর্শকেরাও।

প্রায় দেড় ঘণ্টার পরিবেশনায় তিনি আধুনিক গান, চলচ্চিত্রের গান ও দেশাত্মবোধক সংগীত মিলিয়ে প্রায় ১০টি গান পরিবেশন করেন। প্রতিটি গানের পরই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে মিলনায়তন। কোথাও দর্শকের সম্মিলিত কণ্ঠ, কোথাও আবার আবেগঘন নীরবতা- দুই মিলিয়ে তৈরি হয় এক স্মরণীয় সংগীতসন্ধ্যা।

অনুভূতি প্রকাশ করে রুনা লায়লা বলেন, ‘আমাদের সংগীতের দীর্ঘ পথচলা, গান আর স্মৃতিগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৬২ বছরের পেশাদার সংগীতজীবনে শিল্পকলা একাডেমিতে দুই-তিনবার গান গেয়েছি, তবে একক কনসার্ট এবারই প্রথম। দর্শকদের এই ভালোবাসা আমাকে গভীরভাবে আপ্লুত করেছে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের অনেকেই বলেন, এটি শুধু একটি কনসার্ট ছিল না; বরং বাংলা গানের এক জীবন্ত ইতিহাসকে কাছ থেকে দেখার বিরল সুযোগ। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতে রুনা লায়লার অবদানের প্রতি শ্রোতাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা যেন প্রতিটি করতালিতে প্রতিফলিত হয়েছে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কনসার্টের টিকিট বিক্রির পুরো অর্থ বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় ব্যয় করা হবে। এ অর্থ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে জমা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×