নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ
৫০ লাখ টাকার সড়কে এক মাসেই ধস
জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে ৫ গ্রামের মানুষ
ছবি: সমকাল
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ২১:২৫
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নগরপাড়া বাজার থেকে খালের সেতু পর্যন্ত নির্মিত প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ ইউনি ব্লক সড়কটি উদ্বোধনের এক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়েছে।
৫০ লাখ ৮২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কের একাধিক স্থানে ব্লক দেবে যাওয়া, রাস্তার পাশে ভাঙন এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে নগরপাড়া, কাজীবাড়ি, পূর্বপাড়া, পশ্চিমপাড়া ও আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের প্রায় সাত হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনগণের দুর্ভোগ দূর করতে নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, তদারকির ঘাটতি এবং অপরিকল্পিত কাজের কারণে সড়কটি নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বাজারসংলগ্ন পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায় এবং রাস্তার ওপর ও আশপাশে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরপাড়া বাজার থেকে ভেতরের গ্রামগুলোতে প্রবেশের প্রধান সড়কের কয়েকটি অংশ দেবে গেছে। কোথাও কোথাও ইউনি ব্লক সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে জমে থাকা নোংরা পানির কারণে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে সেই পানি মাড়িয়ে চলাচল করছেন। এতে অনেকের পায়ে চুলকানি, ফুসকুড়ি ও বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে নগরপাড়া ব্রিজ থেকে বাজার পর্যন্ত সড়কটি ভাঙাচোরা ছিল। বর্ষাকালে পানি জমে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি ইউনি ব্লক দিয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। কাজটি পায় বাইতুল আল মামুর এজেন্সি। পরে সাব-ঠিকাদারের মাধ্যমে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, রাস্তা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু পানি যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এখন সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা পানির নিচে চলে যায়। মানুষ চলাচল করতে পারছে না। ব্রাইট শিশু কানন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহিদ ও রাশিদ জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যেতে তাদের নোংরা পানি পেরিয়ে যেতে হয়।
ব্যবসায়ী আবুল হাশেম বলেন, রাস্তার পানি এখন দোকানের ভেতরে ঢুকে যায়। ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্রেতারাও আসতে চান না। আরেক বাসিন্দা জানান, এলাকায় কেউ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারে না। রোগীদের খাটিয়া বা কাঁধে করে মূল সড়ক পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়।
স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজ শুরুর সময়ই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়। কিন্তু অভিযোগের যথাযথ তদন্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় নিম্নমানের কাজ শেষ পর্যন্ত জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা প্রকল্পটির কারিগরি তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে নির্মাণকাজের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রকৌশলগতভাবে পরীক্ষা করা হবে। কোথাও ত্রুটি থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদি নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- নারায়ণগঞ্জ
- রূপগঞ্জ