ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

২০২৭ সালে ৩১ কোটি নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

২০২৭ সালে ৩১ কোটি নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী
×

ছবি: সমকাল

চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ২৩:১৮ | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ২৩:১৮

২০২৭ সালের জানুয়ারিতে সারাদেশে ৩১ কোটি গুণগত মানসম্পন্ন নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, নতুন পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস অত্যন্ত সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হবে এবং কোনো ধরনের ইতিহাস বিকৃতি বরদাশত করা হবে না।

তিনি বলেন, ২০২৮ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন কারিকুলামে নতুন বই অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশের সঠিক, নির্মোহ ও তথ্যভিত্তিক ইতিহাস স্থান পাবে। সেই ইতিহাসে কোনো ধরনের রাজনৈতিকীকরণ, প্রোপাগান্ডা বা বিকৃতি থাকবে না; যা সত্যি, কেবল সেটাই শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে।

শুক্রবার চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আপনাদের নিজ সন্তানকে যদি নিজ প্রতিষ্ঠানে পড়াতে না পারেন, তাহলে অন্যরা কেন তাদের সন্তান আপনাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করতে ভরসা পাবে?’ 

সরকারি ও স্বনামধন্য জেলা স্কুলগুলোর অতীত ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা একসময় নিজেদের সন্তানকেও সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াতেন। সেই হারানো মান ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে দেশের সব শিক্ষককে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু গতানুগতিক পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা নিলে চলবে না; এর পাশাপাশি বিতর্কচর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, ধর্মীয় মূল্যবোধ, খেলাধুলা এবং বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে এবং ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ একটি অনস্বীকার্য ঐতিহাসিক সত্য। সেই দুর্ভিক্ষে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে—ইতিহাসের অংশ হিসেবে সেই ঘটনাও পাঠ্যবইয়ে যথাযথভাবে থাকবে। তবে কোনো ব্যক্তি বা বিশেষ গোষ্ঠীর ওপর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দায় চাপিয়ে কোনো মনগড়া ব্যাখ্যা সংযুক্ত করা হবে না। ইতিহাস তার আপন গতিতেই পাঠ্যবইয়ে উপস্থাপিত হবে। 

মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি খোরশেদ আলম মান্নানের সভাপতিত্বে এবং সাচার ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ নওশির আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান রাসেল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু নাসির, পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফজলুল হক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. খায়রুল আবেদীন স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ এলাহী সুভাষ। এ ছাড়া স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই শিক্ষক সমাবেশে কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। সকাল থেকেই শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সমাগমে সমাবেশস্থল কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল।

আরও পড়ুন

×