ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পর্যটন উন্নয়নে সিলেট সীমান্তে ২৭ কিলোমিটার লিংক রোড

পর্যটন উন্নয়নে সিলেট সীমান্তে ২৭ কিলোমিটার লিংক রোড
×

সিলেট জেলার সাদাপাথর থেকে জাফলং পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে। শনিবার বিছনাকান্দি এলাকা থেকে তোলা সমকাল

মুকিত রহমানী, সিলেট ও জাকির হোসেন, গোয়াইনঘাট

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের হজরত শাহজালাল ও হজরত শাহ পরান (রহ.) এর মাজার ও চা বাগান ছাড়াও সীমান্তজুড়ে রয়েছে ৮-১০টি পর্যটনকেন্দ্র। একজন পর্যটক চাইলে সারা দিনে মাত্র দুটি কিংবা তিনটি পর্যটনকেন্দ্র ঘুরতে পারেন। অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্র ঘুরতে পরিকল্পনা নিতে হয় পরের দিনের। এতে সময় ও টাকা দুটিই বেশি খরচ হয়। এ অবস্থায় সবকটি ভ্রমণ স্থানকে এক সুতোয় বাঁধতে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে একটি সমন্বিত সড়ক নেটওয়ার্কে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

২০২৩ সালে গোয়াইনঘাট উপজেলার তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান সীমান্ত সড়ক নির্মাণের প্রস্তাবনা পেশ করেন। শুধু পর্যটনকেন্দ্রগুলোর যাতায়াতের জন্য নয়, তিনি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রস্তাবনা তৈরি করেন। যেন অবৈধভাবে পাথর-বালু উত্তোলন ও চোরাচালান থেকে দূরে থাকেন তারা। প্রস্তাবনায় ‘বর্ডার ড্রাইভ’ সড়ক নির্মাণ হলে পর্যটনখাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে বলেও উল্লেখ করা হয়। তৎকালীন জেলা প্রশাসক মুজিবুর রহমান প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ে পাঠান।  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও স্থানীয় এমপি আরিফুল হক চৌধুরী নতুন করে সীমান্তে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেন।
সম্প্রতি সড়কের কাজও শুরু হয়েছে। কোথাও পুরাতন রাস্তার ওপর কোথাও বা রাস্তা প্রশস্ত করার কাজ চলছে। জানা গেছে, সাদাপাথর থেকে জাফলং পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটারের মধ্যে ২৭ কিলোমিটার এলাকায় কাজ হবে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকার সড়কে কাজ শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে বাকি অংশে দরপত্র আহ্বান ও আগামী বছরের মধ্যে ২৭ কিলোমিটার সড়কের সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দপ্তর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সীমান্তঘেঁষা সড়কটি নির্মাণ শেষ হলে পর্যটকরা এক দিনেই সাদাপাথর, উৎমাছড়া, দমদমা ছড়া, বিছনাকান্দি, লক্ষ্মণছড়া, পান্থুমাই, খাসিয়াপল্লি, জাফলং, মায়াবী ঝর্ণা, শ্রীপুর পর্যটনকেন্দ্র ঘুরতে পারবেন।

পর্যটকরা বর্তমানে সিলেট থেকে সাদাপাথর বা জাফলং বেড়াতে বেশি যান। সীমান্ত সড়ক নির্মাণ হলে সিলেট থেকে সাদাপাথর-বিছনাকান্দি হয়ে তারা জাফলং যেতে পারবেন। এ ছাড়া সিলেট থেকে তামাবিল সড়ক হয়ে শ্রীপুর ও জাফলং ঘুরেও আবার বিছনাকান্দি হয়ে সাদাপাথর যেতে পারবেন। 
এলজিইডির তথ্যমতে, কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর থেকে বিছনাকান্দি হয়ে জাফলং পর্যন্ত পৌঁছাবে সড়কটি। পুরাতন সড়ক সংস্কার ও কিছু এলাকায় রাস্তা নির্মাণ ও প্রশস্তকরণ হবে। ৩২ কিলোমিটারের মধ্যে সাদাপাথর থেকে বিছনাকান্দির বঙ্গবীর এলাকা পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার অংশ রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন স্থানে কাজ চলছে। বঙ্গবীর থেকে লক্ষ্মণছড়া-পান্থুমাই-হাজিরপুর-জাফলং চা বাগান হয়ে জাফলং পর্যন্ত বাকি সড়কের দরপত্র আহ্বান হবে আগামী সেপ্টেম্বরে। এ অংশে তিনটি সেতুসহ রাস্তার সম্ভাব্যতা ইতোমধ্যে যাচাই করা হয়েছে। দুটি অংশে ৫টি সেতু নির্মাণ করা হবে। সব মিলিয়ে নির্মাণ ব্যয় হবে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়কটি নির্মাণ হলে শুধু ভ্রমণকে সহজ করবে না, বরং সীমান্তবর্তী এলাকার অর্থনীতিতেও নতুন গতি আসবে। পর্যটক বাড়লে প্রত্যেকটি পর্যটন এলাকায় গড়ে উঠবে হোটেল-রেস্তোরাঁ। নৌযান পরিচালনা, পর্যটনসেবা ও ক্ষুদ্র ব্যবসারও সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি কৃষকরাও সহজে তাদের পণ্য বাজারজাত করতে পারবেন। কোম্পানীগঞ্জের সীমান্তবর্তী উত্তর রনিখাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফয়জুর রহমান বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সীমান্তবর্তী গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।’
সিলেটের ভ্রমণপিপাসুরা জানিয়েছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেটে রয়েছে অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্র। অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন হয়নি। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার সত্ত্বেও প্রতি বছর কয়েক লাখ পর্যটক দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘুরতে সিলেট আসেন। অথচ অনেক পর্যটনকেন্দ্র এলাকায় নেই পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা। শুধু নতুন করে সড়ক নয়, পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উন্নয়নও জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
এলজিইডির সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান সমকালকে জানান, সিলেটের সীমান্তঘেঁষা ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন সড়কে কাজ চলছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১০ কোটি টাকা। সড়কের বাকি অংশ উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ কোটি টাকা। আগামী বছরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে পর্যটনকেন্দ্রগুলো একটি সমন্বিত সড়ক নেটওয়ার্কে আওতায় আসবে।

আরও পড়ুন

×