দাবি বাস্তবায়ন ও শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায় খুবি শিক্ষার্থীরা
ফাইল ছবি
খুবি সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ | ২১:৪৮
যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক ভবনের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চলমান এবং মূল ফটক বন্ধ থাকায় এখনও স্বাভাবিক হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। এই পরিস্থিতিতে দাবির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের পাশাপাশি দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষা শুরুর প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে, ভিডিও ধারণে অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা, যৌন হয়রানিতে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছার ও অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা এবং ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা।
শিক্ষার্থীদের এসব দাবির কয়েকটির বিষয়ে এরই মধ্যে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধনও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার, সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডির জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়গুলো এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, আন্দোলনের কারণে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি স্কুলের প্রথম বর্ষের টার্ম পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকাও কাম্য নয়।
গণিত ডিসিপ্লিনের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর এটাই আমাদের প্রথম টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা। পরীক্ষার মধ্যেই আন্দোলন শুরু হওয়ায় বাকি পরীক্ষাগুলো আর দিতে পারিনি। আমরা সেশনজট বা অ্যাকাডেমিক ক্ষতির মুখে পড়তে চাই না। তবে একই সঙ্গে আমরা চাই, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোও বাস্তবায়ন হোক।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নে অগ্রগতি হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেগুলো সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেসব কাজের অগ্রগতি বেশ ভালো। আমরা যে সময়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, ইনশাআল্লাহ সেই সময়ের মধ্যেই কাজগুলো হবে।’
অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় শিক্ষার্থীদের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। বিচার প্রক্রিয়া চলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও যেন ক্ষতি না হয়, সেটিও আমাদের দায়িত্ব। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের কোর্স চার বছরেই শেষ করার যে সুনাম রয়েছে, সেটি ধরে রাখতে শিক্ষক ও ডিসিপ্লিনগুলো প্রস্তুত।’
- বিষয় :
- খুবি