সুনামগঞ্জে হামলার শিকার কিশোরী ফুটবলার
ম্যাপ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ০৩:৩৭
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় জেলা মহিলা দলের ১২ বছর বয়সী এক কিশোরী ফুটবলারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। তিনি উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া গ্রামের তৈয়ব আলীর মেয়ে। শুক্রবার ভোরে উপজেলার শ্যামারচর এলাকার পেরুয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দিরাই সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার ভোর প্রায় ৫টার দিকে বাড়ির সামনে অনুশীলন (প্র্যাকটিস) করছিল সেই কিশোরী। এ সময় পূর্ববিরোধের জেরে একই এলাকার কয়েকজন নারী-পুরুষ তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা কিশোরীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে মাটিতে ফেলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।
আহত ফুটবলারের বোন বলেন, ‘আগে একটি বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের পরিবারের ঝামেলা হয়েছিল। পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসে সেটির মীমাংসা করে দেন। কিন্তু আমার বোন সেই ঘটনার কিছুই জানত না। আজ সকালে সে অনুশীলন করতে গেলে একাধিক ব্যক্তি তাকে একা পেয়ে মারধর করে। তারা তাকে মাটিতে ফেলে বেদম প্রহার করে।’
স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবের কোচ রাকিব আহমদ ভূঁইয়া বলেন, ‘একজন কিশোরী ফুটবলারকে একা পেয়ে এভাবে মারধরের ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। যারা খেলাধুলার মাধ্যমে জেলার সুনাম বয়ে আনছে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। আমরা দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’
দিরাই সরকারি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়াসিম আকরাম বলেন, ‘মেয়েটির হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত।’
দিরাই থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। তিনি জানান, বিষয়টি জেনে সুনামগঞ্জ ও ঢাকা থেকে ক্রীড়াঙ্গনের দায়িত্বশীলরা ফোন দিয়ে ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
দিরাই উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্যসচিব শাহ আলম বলেন, খেলোয়াড়দের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।