চকনদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
১২৮ শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র দুইজন শিক্ষক
সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩০
| প্রিন্ট সংস্করণ
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে চকনদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২৮ জন। সেখানে কর্মরত শিক্ষক মাত্র দুইজন। এই বিদ্যালয়ে সরকারিভাবে চার শিক্ষকের পদশূন্য থাকায় দুই শিক্ষকই পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাতে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি করে ক্লাশ নিতে হয় তাদের। শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।
বিদ্যালয়টিতে চলতি শিক্ষাবর্ষে ৬৭ জন বালক আর ৬১ জন বালিকা শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে সব শ্রেণিতে নিয়মিতভাবে সব বিষয়ের পাঠদান সম্ভব হয় না। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য শঙ্কার বিষয় হচ্ছে, আগামীকাল এই বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষক অবসরে যাবেন। তখন এক শিক্ষককেই পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিউর রহমান জানান, তিনি আগামীকাল ২ আগস্ট অবসরে যাবেন। তখন এই বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক থাকবেন মাত্র একজন। অথচ বিদ্যালয়টি অত্র এলাকার মধ্যে একটি ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।
অভিভাবক আতাউর রহমান বলেন, শূন্যপদে দ্রুত শিক্ষক পদায়ন না দিলে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়বে। এ ছাড়া সামনে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বৃত্তি এবং বার্ষিক ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে না পারলে এসব পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল করবে। তাতে দেখা যাবে আগামীতে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাবে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, শুধু এই বিদ্যালয়েই নয়, সাদুল্লাপুর উপজেলার অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক শূন্য রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই উপজেলায় এখন ১১৪ জন শিক্ষকের পদ শূন্য। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ সংখ্যা ৫৩ জন, আর সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদ সংখ্যা ৬১ জন। শিক্ষকদের অবসরজনিত কারণে শূন্যপদের সংখ্যা দিনদিনে বেড়েই চলেছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে উপজেলার চারবারের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক জানান, একজন শিক্ষকের পক্ষে প্রতিদিন চারটি ক্লাস নেওয়া উত্তম। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এর বাহিরে অতিরিক্ত ক্লাস নিলে ওই শিক্ষকের নিজের প্রস্তুতিতেই ঘাটতি দেখা দেবে। পাশাপাশি তার মানসিক ও শারীরিক সমস্যা দেখা দেবে। আর এ সবের প্রভাব পরবে শিক্ষার্থীদের ওপর। ফলে তারা ক্লাসে ঠিকভাবে লেখাপড়া শিখতে পারবে না।
বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিত থাকলে শিক্ষার্থীরা অবশ্যই মনোযোগী হয়ে ক্লাসে থাকবে। আর শিক্ষক না থাকলে অমনোযোগী হবে শিক্ষার্থীরা। তাই একটি বিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষকের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও ইউএনও মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় উপযুক্ত পরিবেশ না পেলে শিক্ষা জীবনে পিছিয়ে পরবে। তাই তাদের লেখাপড়ার পরিবেশে রাখতে সবাইকে কাজ করতে হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শম্ভুচরণ দাস জানান, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকের শূন্যতা অতিদ্রুত দূর করার জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
- বিষয় :
- বিদ্যালয়