সাড়ে ৬ কোটি টাকা তুলে কাজ ফেলে চলে গেছেন ঠিকাদার
ঢাকার ধামরাইয়ের কুশুরা-ধানতারা সড়কের কাজ বন্ধ দুই বছর ধরে। তাই সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার কান্টাহাটি এলাকায় সমকাল
মোকলেছুর রহমান, ধামরাই (ঢাকা)
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকার ধামরাই উপজেলার কুশুরা বাজার থেকে ধানতারা বাজার পর্যন্ত আট কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কার কাজ ফেলে দুই বছরের বেশি সময় ধরে লাপাত্তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে এরই মধ্যে ৭৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে তারা। অথচ বাস্তবে ৪০ ভাগ কাজও হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। অন্যদিকে, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পড়ে থাকায় যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে উপজেলার কুশুরা, যাদবপুর, বাইশাকান্দা ও বালিয়া ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় ধামরাইয়ের কুশুরা বাজার থেকে ধানতারা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কটি মেরামত ও প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পায় ধামরাইয়ের মেসার্স ইসমাইল হোসেন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে তারা কাজ শুরু করে। এরপর ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত দুই বছরে মাত্র দুই কিলোমিটার পাকা এবং আরও দেড় কিলোমিটার অংশে ইটের খোয়া ফেলা হয়। ওই বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঠিকাদার আত্মগোপনে চলে যান। তাঁর লোকজনও কাজ ফেলে চলে যায়।
কাজটি ২০২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাকি কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। উপজেলা এলজিইডি থেকে চিঠি দিলেও তাদের সাড়া মেলেনি। তবে এরই মধ্যে ঠিকাদারি
প্রতিষ্ঠান ৭৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ছয় কোটি ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষজন বলছেন, যতটুকু কাজ হয়েছে তাতে ৪০ ভাগও হবে না বলে মনে করছেন তারা। উপজেলা প্রকৌশলীও মনে করছেন যে পরিমাণ বিল তোলা হয়েছে তাতে ৫০ ভাগ কাজ হয়ে থাকতে পারে।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের দেড় কিলোমিটার অংশে বিছানো ইটের খোয়া ভেঙে ধুলায় পরিণত হয়েছে। ধুলাময় পথ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ছোট ছোট যানবাহন। আবার অনেক স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন ব্রেক চাপলে চাকা পিছলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। সড়কটি আগে পাকা ছিল। কাজের অংশ হিসেবে দেড় কিলোমিটারের পিচ তুলে সেখানে খোয়া বিছানো হয়েছিল। বাকি সাড়ে চার কিলোমিটারে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল খালেক বলেন, সংস্কার কাজ শুরুর আগে সড়কটি দিয়ে তবু চলাচল করতে পারতাম। এখন তো চলাই কঠিন। দীর্ঘদিন রাস্তা মেরামতের কাজটি বন্ধ থাকায় এলাকার লোকজনের চলাচলের অনেক অসুবিধা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাটি মেরামতের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান।
এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রানা তালুকদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
ধামরাই উপজেলা প্রকৌশলী মিশুক কুমার দত্ত মাসদুয়েক আগে এ দপ্তরে যোগ দিয়েছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যোগদানের আগেই ঠিকাদার সড়কের ৭৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে সাড়ে ৬ কোটি টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন। ওই সময়ই পুরো কাজ সম্পন্ন না করায় ঠিকাদারকে ১৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা করে তা আদায় করা হয়। তাঁর কাজের চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন করে টেন্ডারের মাধ্যমে সড়কটির বাকি কাজ শেষ করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
- বিষয় :
- রাস্তা