আদালতের আদেশ অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থাপনা নির্মাণ
ফুলবাড়িয়া উপজেলার চৌদার গ্রামে বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণ করা স্থাপনা সমকাল
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফুলবাড়িয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের চৌদার গ্রামে আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করে নালিশি জমিতে স্থাপনা নির্মাণ ও দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি, স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশীদ বাচ্চু একজন আইনজীবীর বাবা হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করেই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ঘেঁটে জানা যায়, চৌদার মৌজার ৩০৪৫ নম্বর দাগের জমি সিএস ১৬, এসএ ২২ এবং বিআরএস ২৮ নম্বর খতিয়ানটি অনাথ দাসের নামে রেকর্ড করা। ওই খতিয়ান থেকে ২ দশমিক ৪০ শতাংশ জমি তিনি তাঁর ছেলের বউ শ্রীমতি মিনতি রানীকে দানপত্র মূলে দলিল দেন। অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের সিএস খতিয়ান-৬৩, এসএ ১৭০ খতিয়ানের ওই একই দাগ থেকে ১৩ শতাংশ জমি বিআরএস রেকর্ড হয় খতিয়ানের মালিক সাছুনী দাসের ওয়ারিশ যতীন্দ্র চন্দ্র দাসের নামে। দীর্ঘদিন তাঁর উত্তরাধিকারীরা জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন। যতীন্দ্রের বড় ছেলে মৃত অনিল চন্দ্র দাসের একমাত্র ছেলে অপূর্ব দাস। সে তাঁর পৈতৃক অংশ নিজ নামে নামজারি সম্পন্ন করে স্থানীয় শহিদুল হকসহ চারজনের কাছে সাফ-কবলা দলিলমূলে বিক্রি করেন। ক্রেতাদের নামেও সম্পন্ন হয়েছে জমা-খারিজ। জমি কিনে মামলা-সংক্রান্ত জটিলতায় বিপাকে পড়েছেন তারাও।
ওই ১৩ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ফুলবাড়িয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা করেন বাচ্চু। মামলাটি বিচারাধীন থাকাবস্থায় আদালত নালিশি জমির ওপর উভয়পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন এবং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মাটি ভরাট কিংবা কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু আদালতের ওই আদেশ অমান্য করে বাচ্চুর বিরুদ্ধে নালিশি জমিতে স্থাপনা নির্মাণ ও দখলের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, আদালতের সেই আদেশ উপেক্ষা করে হারুন অর রশীদ বাচ্চু নালিশি জমিতে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করে দখলে রয়েছেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ রেকর্ডীয় মালিকদের উত্তরাধিকারীরা আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন, অবৈধ নির্মাণ বন্ধ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
মামলার বিবাদী ভুক্তভোগী অপূর্ব দাস বলেন, মিনতি রানীর কাছ থেকে যে পরিমাণ জমি তিনি কিনেছেন তা মূল মালিকানার তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি। ওই অতিরিক্ত জমির হিসাব মিলাতেই তাঁর দাদা যতীন্দ্র চন্দ্র দাসের নামে বিআরএস রেকর্ডীয় জমির ওপর চোখ পড়েছে তাঁর। চলমান মামলায় আদালতের আদেশ অমান্য করে বাচ্চু ওই জমি দখল করেছেন।
শহীদুল হক আকন্দ জানান, অপূর্বর থেকে তিনি সোয়া ২ শতাংশ জমি কিনে ঘর নির্মাণ করে দখল বুঝে নিয়েছিলেন। এরপরই বাচ্চু মামলা করেন এবং লোকজন নিয়ে ওই জমি দখল করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার এবং জমির মালিকানা দাবি করেছেন হারুন অর রশীদ বাচ্চু। তিনি বলেন, অনাথ দাসের কাছ থেকে পুকুরসহ ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ জমি কিনেছেন তিনি। সবার মধ্যে থাকা পুকুর থেকে বিআরএস মূলে তারা ১৩ শতাংশ জমি দাবি করছেন। তিনি মামলা করেছেন, রায় আদালত দেবেন। তাদের পক্ষে রায় এলে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
বাচ্চুর ছেলে অ্যাডভোকেট বিপ্লব বলেন, ‘মামলায় আমার পক্ষেই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আমি যদি আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করে থাকি, তাহলে তারা আমার বিরুদ্ধে সিভিল কোর্টে আবেদন করুক।’ মামলা চলাকালে কোনো পক্ষেরই কাজ করার সুযোগ না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটি আদালতের বিষয়। আপনি আপনার সংবাদ প্রকাশ করুন।’
ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মমরুজুল হাসান জুয়েল জানান, আদালত স্থিতাবস্থার আদেশ জারি করলে কোনো পক্ষই সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অবস্থানেরও পরিবর্তন ঘটাতে পারবে না। কেউ তা করলে আদালত অবমাননার শামিল হবে।
- বিষয় :
- নির্মাণকাজ