আইসিইউতে অচেতন কাউসার, হারালেন গর্ভের ৭ মাসের সন্তান
ছবি: সমকাল
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩৭ | আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ১১:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
সড়ক দুর্ঘটনার দুই দিন পরও হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন পোশাকশ্রমিক কাউসার আক্তার। দুর্ঘটনার পর তিনি মৃত এক পুত্রসন্তান প্রসব করেন। মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে দুই দিন ধরে হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় রয়েছেন এই মা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে কর্ণফুলী টানেল মোড়ে বাসচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা ইফা শীল ও পলি দত্ত নামে দুই নারী পোশাকশ্রমিক নিহত হন। তাদের সহকর্মী কাউসার আক্তারও ওই অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গত শুক্রবার ভোরে তিনি গর্ভের সাত মাসের মৃত সন্তান প্রসব করেন। এর পর থেকেই তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন।
গত শুক্রবার দুপুরে আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ঝিওরি গ্রামে নবজাতকটির দাফন সম্পন্ন হয়। সন্তানের দাফন শেষ করেই হাসপাতালে স্ত্রীর শয্যাপাশে ফিরে যান কাউসারের স্বামী মোহাম্মদ আরিফ। প্রায় আট বছর ধরে কোরিয়ান ইপিজেডের (কেইপিজেড) একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন কাউসার। তাদের সংসারে ১০ বছরের ছেলে মো. রাফি ও ৫ বছরের মেয়ে তাবাসসুম রয়েছে। দুদিন ধরে মায়ের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে মানসিক কষ্টে দিন কাটছে তাদের।
কাউসারের শ্বশুর মো. নুরুন্নবী বলেন, ‘দুর্ঘটনায় আমার পুত্রবধূর মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। এখনও তার জ্ঞান ফেরেনি। গর্ভের সন্তানকে আর বাঁচানো গেল না। এখন শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আমার পুত্রবধূ যেন সুস্থ হয়ে সন্তানদের কাছে ফিরে আসতে পারে।’
বগুড়ায় পিকআপের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৪
বগুড়ার কাহালুতে পিকআপ ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক, সহকারী, দুই মাছচাষিসহ চারজন নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার কাজিপাড়া এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের একজন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার তরিকুল ইসলাম রিয়াদ (২২)। আগামী শুক্রবার তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। গতকাল শনিবার সকালে রিয়াদের মৃত্যুর খবর আসতেই পুরো বাড়ির বিয়ের আনন্দ মাতমে পরিণত হয়।
দুর্ঘটনায় নিহত অন্য তিনজন হলেন– ময়মনসিংহ সদর উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের লুৎফর রহমান (৫০), পিকআপচালক শুভ্র দেবনাথ (৪৫) এবং তার সহকারী নাছির উদ্দিন (২৪)।
রাজশাহীতে তিন কিশোরসহ নিহত ৪
রাজশাহীর মোহনপুর ও পুঠিয়ায় পৃথক দুর্ঘটনায় তিন কিশোরসহ চারজন নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় মোহনপুরের কেশরহাট ডিগ্রি কলেজের সামনে দ্রুতগতির ড্রাম ট্রাক একটি মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে তিন কিশোর গুরুতর আহত হয়। তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে মোহনপুর উপজেলার সিংহমারা গ্রামের লিমন (১৬) ও সাঁকোয়া গ্রামের রাতুল মিয়াকে (১৫) মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর গভীর রাতে স্বাধীন মিয়া (১৭) নামে আরেক কিশোরের মৃত্যু হয়।
- বিষয় :
- আইসিইউ
- সড়ক দুর্ঘটনা