ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শত্রুতা ছিল না, তবু কেন হত্যা

শত্রুতা ছিল না, তবু কেন হত্যা
×

নিহতদের জানাজা। ছবি: সমকাল

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৬:৫৩

বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের তিনজনকে হত্যায় কারা জড়িত, তা শনাক্ত করা যায়নি। স্বজনেরা তাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন। এ ঘটনায় নিহত মনিরা বেগমের বড় ছেলে ফয়সাল হাওলাদার মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় মামলা করেছেন। 

গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরকোলা গ্রামে পাওয়া যায় তিনজনের মরদেহ। তারা হলেন–এই গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের ছেলে স্ত্রী মনিরা বেগম, আহাদ হাওলাদার, মনিরার মা রাশিদা বেগম। রাশিদা বেগম বাগেরহাট সদর উপজেলার বৃষ্টিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশীদের স্ত্রী। তিনজনেরই মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল। সবার শরীরেই পচন ধরা দেখে পুলিশের ধারণা, কয়েকদিন আগে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করলেও আহাদ, তাঁর মায়ের মোবাইল ফোন ও কোনো মূল্যবান মালপত্র উদ্ধার করতে পারেনি। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাতুড়িসহ কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। 

এদিকে গতকাল বুধবার বিকেল ৬টায় চান্দেরকোলা এলাকায় জানাজা শেষে মনিরা বেগম ও আহাদ হাওলাদারের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজা শেষে রাশিদা বেগমের দাফন হয় বাগেরহাট সদরের বৃষ্টিপুরে। নানা জল্পনা এলাকায় তিনজনকে বাড়িতে ঢুকে হত্যার কারণ সম্পর্কে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশীর ভাষ্য, মনিরা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। নিজের ও ছেলেদের আয়ের টাকায় একটি ভবন নির্মাণ শুরু করেছিলেন। সেটির ছাদ করতে ঘরে কিছু টাকা রেখেছিলেন মনিরা। তাঁর একমাত্র মেয়ের কিছু স্বর্ণালংকারও ঘরে ছিল। স্থানীয় কিছু মানুষ এসব তথ্য জানতেন। টাকা-স্বর্ণ লুটের সময় হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। 

অন্য প্রতিবেশীরা বলছেন, আহাদ ও তাঁর মায়ের কোনো শত্রু ছিল না। সবার সঙ্গে তাদের ভালো সম্পর্ক ছিল। তাদের ঘরের ৫০০ বর্গফুটের মধ্যে আরও দুটি ঘর রয়েছে। এসব ঘরের বাসিন্দারা কিছুই টের পাননি, এ নিয়েও কিছুটা জটিলতা রয়েছে। দুই দিন ধরে একটি পরিবারের কারও দেখা না পেয়ে প্রতিবেশীরা তাদের খুঁজলেন না, এটিও সন্দেহজনক।

মামলার বাদী ফয়সাল হাওলাদার বলেন, ‘এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বাবা মারা যাওয়ার পরে আমরা খুবই কষ্ট করেছি। মা ও ভাই যে ঘরে থাকতেন, সেটি খুবই ভাঙাচোরা। মা, আমি ও ভাই সবাই মিলে খুবই কষ্ট করে, একটি ভবন করছিলাম।’ মায়ের সঙ্গে তাঁর রোববার রাতে সর্বশেষ কথা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মা আমাকে বলেছিলেন, ছাদ করার মতো টাকা আছে। ঘরে থাকা টাকা, মা ও ভাইয়ের মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার কিছুই উদ্ধার হয়নি। আসলে কী হয়েছে জানি না, আমাদের চাওয়া একটাই– হত্যাকারীদের বিচার।’ 

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ, কচুয়া থানা পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একাধিক দল এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সব ধরনের সম্ভাব্যতাকে সামনে রেখে পুলিশের অভিযান চলছে। গোয়েন্দা তৎপরতাও আছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটনের আশা করছেন তিনি। 

আরও পড়ুন

×