ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএসটিআইর খুলনা কার্যালয়

শতকোটি টাকার ভবনের অর্ধেকই ফাঁকা

শতকোটি টাকার ভবনের অর্ধেকই ফাঁকা
×

পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় ভবন। ছবি: সংগৃহীত

হাসান হিমালয়, খুলনা

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫৬ | আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৫১

খুলনায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) আঞ্চলিক কার্যালয় ও ল্যাবরেটরির জন্য নগরীর খালিশপুরে ১০ তলা সুরম্য ভবন নির্মাণ করেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। একই প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামেও আঞ্চলিক কার্যালয় নির্মাণ হয়। প্রায় ২৮২ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পের মধ্যে শুধু খুলনার ভবন নির্মাণেই ব্যয় হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা। ল্যাবরেটরির (গবেষণাগার) যন্ত্রপাতিতে ২০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

২০২৩ সালে খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়টি চালু হয়। নিচতলার একাংশ থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত বিএসটিআইর কাজে ব্যবহৃত হলেও বাকি তলাগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। তিন বছর ধরে পাঁচতলা থেকে ১০ তলা ভাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে বিএসটিআই। কিন্তু প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার বর্গফুটের বিশাল আয়তনের ফ্লোর ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। গত এপ্রিল মাস থেকে শুধু নিচতলার একাংশ ভাড়া নিয়েছে সোনালী ব্যাংক। বিপুল ব্যয়ে নির্মিত বাকি স্থাপনা অলস পড়ে আছে।

ভবনটিতে গিয়ে দেখা গেছে, আড়াই একর জায়গার ওপর বিশাল ভবন ঘুরে দেখতেই দীর্ঘ সময় লেগে যায়। নিচতলায় বিএসটিআইর ওয়ানস্টপ সার্ভিস, দুটি ল্যাব ও যন্ত্রপাতি রয়েছে। দ্বিতীয় তলায় অফিস প্রধানের কার্যালয়, সভাকক্ষ ও মেট্রোলজি উইং, তৃতীয় তলার একাংশে প্রশাসনিক শাখা, সার্টিফিকেট মার্কস (সিএম) শাখা এবং চতুর্থ তলার পুরোটাজুড়েই বিভিন্ন ল্যাব রয়েছে। বেশির ভাগ ল্যাবই তালাবদ্ধ দেখা গেছে। ভবনের পঞ্চম থেকে দশম তলা পর্যন্ত ফাঁকা। প্রতিটি তলায় ল্যাবরেটরির জন্য পৃথক বড় বড় কক্ষ তৈরি করে রাখা হয়েছে। অন্য কোনো কাজে স্থাপনাটি ব্যবহার করা বেশ কঠিন।

ভবনের প্রতিটি তলায় জায়গা রয়েছে সাড়ে ১৮ হাজার বর্গফুট। চারটি লিফটসহ আধুনিক সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। আয়তনের তুলনায় মানুষ এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যা খুবই কম। 

প্রশাসন শাখার কর্মকর্তারা জানান, বিএসটিআইর আঞ্চলিক কার্যালয় ও ল্যাবরেটরিতে অনুমোদিত পদ রয়েছে ৬১টি। এর ৩৬টি পদই শূন্য। প্রায় ৭০ হাজার বর্গফুট জায়গায় কাজ করেন মাত্র ২৫ জন। এর মধ্যে ১৯ জন কর্মকর্তা এবং ছয়জন কর্মচারী। এত অল্প জনবলে বিশাল অফিস চালাতে হিমশিম খাওয়ায় দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে আরও ৯ জন শ্রমিক নেওয়া হয়েছে।

বিএসটিআইর কর্মকর্তারা জানান, ‘চট্টগ্রাম এবং খুলনায় বিএসটিআইর আঞ্চলিক অফিস স্থাপন ও আধুনিকীকরণ’ নামে প্রকল্পটি ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন হয়। শুরুতে প্রকল্প ব্যয় ছিল ২৩৩ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের ৩০ জুন প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ২০১৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সংশোধন করা হয়। প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় বেড়ে প্রকল্পের খরচ দাঁড়ায় ২৮২ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের ৩০ জুন প্রকল্পের খুলনা অংশের কাজ শেষ হয়। ওই বছরের ২৩ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভবনটি উদ্বোধন করেন।

বিএসটিআইর খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. লুৎফর রহমান বলেন, একসময় কাজের চাপ বাড়বে, আরও জায়গা প্রয়োজন হবে এমন ধারণা থেকেই ১০ তলা ভবন তৈরি হয়েছিল। এখন এত বিশাল জায়গা রক্ষণাবেক্ষণ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাঁচটি তলা ভাড়া দেওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, সাইনবোর্ড দেওয়া হচ্ছে। গত ১ এপ্রিল থেকে শুধু সোনালী ব্যাংক নিচতলার একপাশের দুই হাজার ৬৩৩ বর্গফুট জায়গা ভাড়া নিয়েছে। চট্টগ্রামের ভবনের বাকি তলা ভাড়া হলেও খুলনার ভবনটির ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন

×