জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস
গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নিম্নমানের খাবার’ বিতরণ, সংঘর্ষে আহত ১
সংগৃহীত ছবি
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:১১ | আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:১৪
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ‘নিম্নমানের খাবার’ বিতরণকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সদস্যসচিব ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস হলের অফিস কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তিতুমীর হল, স্বাধীনতা হল, বনলতা হল, অপরাজিতা হল ও বিজয় দিবস হলে ফিস্টের (ভোজ) আয়োজন করা হয়। তবে পরিবেশিত খাবারে নিম্নমানের খাবার ও পচা ডিম দেওয়ায় অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা।
এর পরিপ্রেক্ষিতে শহীদ তিতুমীর হল ও স্বাধীনতা হলের একদল শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করতে বের হয়।
সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে হাবিবুর রহমানের বাগ্বিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি স্বাধীনতা দিবস হলের প্রভোস্টের কক্ষে আশ্রয় নেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি একজনের জন্য একটি খাবারের প্যাকেট নিতে নিচে নামি। তখন তিতুমীর হল থেকে কিছু শিক্ষার্থী স্বাধীনতা দিবস হলের গেটের সামনে এসে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আমি বলি, এই হলে এমন কেউ নেই। এরপর কয়েকজনের সঙ্গে আমার বাগ্বিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে হলের অফিস কক্ষের সামনে আমার ওপর হামলা করা হয়। হামলাকারীদের মধ্যে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদ শিপলুসহ আরও অনেকে ছিলেন।’
অভিযুক্ত জাকারিয়া মাহমুদ শিপলু অভিযোগ অস্বীকার করেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে হামলার অভিযোগ করা হয়েছে, আমি এর সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই। আমি হামলা করিনি, বরং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি মাত্র। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই এর সত্যতা মিলবে।’
স্বাধীনতা দিবস হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘হাতাহাতির সময় আমি ও আমার অফিস সহকারী নামাজে ছিলাম। পরে ফিরে এসে শুনেছি কিছুটা হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে কোনো পক্ষই এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি।’
শহীদ তিতুমীর হলের প্রভোস্ট নাসির উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। মিলের জন্য নির্ধারিত অর্থ শিক্ষার্থীদের ফেরত দেওয়া হবে এবং আগামী সোমবার পুনরায় ফিস্টের আয়োজন করা হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এস এম আহসান বলেন, ‘হাবিবুর রহমানের ওপর হামলার বিষয়টি আমি জেনেছি এবং তাঁর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে। যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’
পাশাপাশি আগামী সোমবার পুনরায় ফিস্টের আয়োজন এবং টোকেন বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি।