জ্বালানি তেল
বিপিসির ৫০০০ কোটি টাকার ‘রিজার্ভ ফান্ড’
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:২১ | আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:১১
| প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বিভিন্ন দেশে ‘রিজার্ভ ফান্ড’ দিয়ে সামাল দেওয়া হয় আপৎকালীন পরিস্থিতি। তাতে বাড়াতে হয় না তেলের দাম। কিন্তু বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রতিবছর মুনাফা করলেও এমন কোনো তহবিল নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেই দেশে এর প্রভাব পড়ে, বাড়ে তেলের দাম। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা চলতে থাকায় আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ফান্ড গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিপিসি।
বিপিসির আর্থিক প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ৫১ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা মুনাফা হয়েছে। এ হিসাবে বছরে গড়ে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার বেশি লাভ করে বিপিসি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংরক্ষিত তহবিল থেকে স্থানান্তরের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে ৫,০০০ কোটি টাকার জেনারেল রিজার্ভ ফান্ড করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিপিসি আইন ২০১৬ ও বিপিসি রুলস ১৯৭৬ অনুসারে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসাপেক্ষে এই ফান্ড গড়ে তোলা হচ্ছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর থেকে বিপিসির করোত্তর মুনাফা থেকে প্রতিবছর ৫০০ কোটি টাকা অথবা মুনাফার ২০ শতাংশ এই ফান্ডে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেট থেকে এই অর্থ সংস্থানের কথা বলা হয়। গত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বিপিসির পরিচালনা বোর্ডের এক সভায় রিজার্ভ ফান্ড গঠনের বিষয়টি এ-সংক্রান্ত ফাইন্যান্স ও অডিট কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। তেল আমদানিতে ভর্তুকি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি কোন কোন কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে, সেটারও প্রস্তাব আকারে একটি তালিকা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিপিসির পরিচালক (অর্থ) ও সরকারের যুগ্ম সচিব নাজনীন পারভীন সমকালকে বলেন, ‘বিপিসি তেল বিক্রি করে যে মুনাফা পায়, সেটা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জমা রেখে দেয়। এখন আপৎকালীন সময়ে সেই টাকায় তেল আমদানি করে সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখা হচ্ছে। তবে আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন করে একটি ফান্ডও গঠন করা হচ্ছে। এটা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও এই ফান্ড দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যাবে।’
বিপিসি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক এনার্জি পলিসি অনুযায়ী ৬০ দিনের জ্বালানি তেলের মজুত রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্থিতিশীল হলে আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে, তথা জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে রিজার্ভ ফান্ড গড়ে তোলাকে এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছে বিপিসি। একই সঙ্গে এ ধরনের রিজার্ভ ফান্ড প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ‘বিপিসি প্রতিবছরই মুনাফা করেছে। মুনাফার একটি অংশকে যদি আপৎকালীন তহবিল হিসেবে রাখা হতো, তাহলে অস্থির সময়ে এই অর্থ ব্যবহার করে যেত এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেত। আপৎকালীন তহবিল আপৎকালেরই পূর্ব প্রস্তুতি।’
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও ভোক্তা অধিকারকর্মী এস এম নাজের হোসাইন সমকালকে বলেন, ‘প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা মুনাফা করার পরও আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো প্রস্তুতি রাখে না বিপিসি। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে তারা উথাল-পাথাল শুরু করে। কেবল তেলের দাম বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে চায় তারা, কিংবা সরকারের কাছে ভর্তুকি দাবি করে। এতে সরকারও বেকায়দায় পড়ে। রিজার্ভ ফান্ডই হতে পারে এই সমস্যা সমাধানের মূল নিয়ামক। দেরিতে হলেও তাদের বোধোদয় হয়েছে।’
- বিষয় :
- জ্বালানি তেল