তনু হত্যা মামলা
আদালতের নির্দেশের পরও আত্মসমর্পণ করেননি আসামি
ফাইল ছবি
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৩০
কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির হননি আসামি হাফিজুর রহমান। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কুমিল্লার আদালতে তার আত্মসমর্পণের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান।
মামলা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান হাফিজুর রহমান। পরে ৪ আগস্ট সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরদিন বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে চেম্বার আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে আবেদনটি উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি রেজাউল হক হাফিজুর রহমানের জামিন স্থগিত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
কুমিল্লা আদালত সূত্র জানায়, মামলাটি কুমিল্লার আদালতে চলমান হওয়ায় চেম্বার আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী হাফিজুর রহমান এখানেই আত্মসমর্পণ করবেন। সে অনুযায়ী শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হলেও আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা প্রস্তুত ছিলেন। তবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি আদালতে হাজির হননি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা পিপি কাইমুল হক সমকালকে জানান, আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শুক্রবার কুমিল্লার আদালতে আসামির আত্মসমর্পণ করার কথা ছিল। সরকারি ছুটির দিন হলেও বিশেষ আদালত চালু রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরাও প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু আসামি আদালতে হাজির হননি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম বলেন, হাফিজুরের জামিন, জামিন স্থগিত ও আদালতে আত্মসমর্পণের কোনো অফিসিয়ালি তথ্য তার জানা নেই। সব মিডিয়া থেকে জানতে পারছেন তিনি। উচ্চ আদালত ও আপিল বিভাগের আদেশের কপি হাতে পেলে বিস্তারিত বলা যাবে।
হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। চলতি বছরের ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরদিন তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ২৫ এপ্রিল তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর জামিনে বের হন তিনি। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় হাফিজুর রহমান কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে যান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু। সেদিন রাতে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছের একটি ঝোঁপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে মামলা করেন তার বাবা। তনুর শরীর ও বিভিন্ন আলামতে একাধিক ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা পাওয়া গেছে।