পাইপলাইন লিকেজে লক্ষ্মীপুরে গ্যাস সংকট
লিকেজ পাইপলাইনে মেরামতের কাজ চলছে। ছবি: সমকাল
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:৫৯
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কেন্দুরভাগ এলাকায় গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজের কারণে শুক্রবার রাত ৯টার পর থেকে লক্ষ্মীপুরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে জেলার প্রায় পাঁচ হাজার আবাসিক গ্রাহক এবং তিনটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের গ্রাহকেরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিকেজ মেরামতের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে রোববার সন্ধ্যার পর থেকে লক্ষ্মীপুরে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় রান্নাবান্না নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকেরা। লক্ষ্মীপুর পৌরশহরের মদিন উল্লাহ হাউজিং এলাকার গৃহিণী রেহানা আক্তার জানান, গ্যাস না থাকায় কয়েক দিন ধরে চুলা জ্বালাতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে কখনো বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে, আবার কখনো এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সংসারের খরচ বেড়ে গেছে।
শহরের আবাসিক গ্রাহক মো. জাকির হোসেন বলেন, অনেক দিন ধরেই গ্যাসের চাপ কম ছিল। এখন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রান্নাবান্নাসহ পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প জ্বালানি কিনতে বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে।
আরেক বাসিন্দা মোছা. নাসরিন আক্তার বলেন, গ্যাসের সংকট আগে থেকেই ছিল। এখন একেবারেই সরবরাহ না থাকায় একদিকে সংসারের খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।
এদিকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালকেরাও। জেলার তিনটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস না থাকায় তাদের দূরের এলাকায় গিয়ে গ্যাস সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।
সিএনজি চালক মো. রুবেল হোসেন বলেন, গ্যাস নিতে দূরে যেতে হচ্ছে এবং সেখানে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি গাড়ি নিয়ে রাস্তায় থাকার সময়ও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে দৈনিক আয় কমে গেছে।
চালক আবুল কালাম বলেন, ‘গ্যাস না থাকায় যাত্রী নিয়ে বের হওয়ার পর কখন জ্বালানি শেষ হয়ে যায়, তা নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়। দূরে গিয়ে গ্যাস আনতে হলে যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হয় না। এতে আয় কমে যাচ্ছে।’
গ্যাস সংকটের কারণে কোনো কোনো সিএনজি চালক অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। লক্ষ্মীপুর শহরের যাত্রী মো. কামাল হোসেন বলেন, আগে যে ভাড়ায় যাতায়াত করতেন, এখন তার চেয়ে বেশি ভাড়া দাবি করা হচ্ছে। গ্যাস সংকটের বাড়তি খরচ সাধারণ যাত্রীদের বহন করতে হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সহকারী প্রকৌশলী মো. খোরশেদ আলম জানান, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কেন্দুরভাগের পশ্চিমে একটি সেতুর নিচে থাকা গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখে মেরামতের কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পাইপলাইনটি পানির নিচে থাকায় মেরামতের কাজে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। কাজ শেষ করতে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় লাগতে পারে। মেরামত শেষ হলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) ও স্থাপনা প্রধান অতুল কুমার নাগ বলেন, লিকেজ মেরামতের কাজ অনেকটা এগিয়েছে। দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। রোববার সন্ধ্যার পর থেকে গ্রাহকেরা নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে চেষ্টা চলছে।