চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত
আদালতে ভাঙচুরের অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে
ছবি: সংগৃহীত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৩৯
চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক যুবদল নেতার জামিন আবেদনকে কেন্দ্র করে আদালতের এজলাস ও বিচারকের খাসকামরা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠলেও অস্বীকার করেছেন তারা। উল্টো বিচারককে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ আখ্যায়িত করে দলটির দাবি, তিনি বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করায় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ করেছেন।
আজ রোববার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাস কক্ষ এবং যুগ্ম জেলা জজ মো. উজ্জ্বল মাহমুদের খাসকামরায় এ ঘটনা ঘটে।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে জেলা নির্বাচন অফিসের দেয়ালে ককটেল বিস্ফোরণের একটি মামলায় পরোয়ানাভুক্ত যুবদল নেতা তুফান আলীকে গত শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল সেই মামলার জামিন শুনানিকালে আদালত অন্য চার আসামির জামিন মঞ্জুর করলেও তুফানের বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেননি। শুনানির সময় এজলাস কক্ষে উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মী মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। একই সঙ্গে লোডশেডিং চলায় বিচারক ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করেন এবং অতিরিক্ত লোকজনকে কক্ষ ত্যাগের অনুরোধ করেন। এতে উপস্থিত নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে এজলাসের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হলে বিচারক উজ্জ্বল মাহমুদ খাসকামরায় চলে যান। এ সময় নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে বিচারকের কক্ষের দরজায় ভাঙচুর চালান ও স্লোগান দেন।
ঘটনার পরপরই বিচারক উজ্জ্বল মাহমুদকে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সেখান থেকে তারা আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওই বিচারকের অপসারণের দাবি জানান এবং দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
ভাঙচুরের কথা অস্বীকার করে মামলার আসামি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বাবর আলী রুমন বলেন, বিচারক বিচারে বিলম্ব করছিলেন এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বর্তমান সরকারকে বিদ্রূপ করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন। জিজ্ঞেস করা হলে তিনি নিজেকে গোপালগঞ্জের বাসিন্দা বলে জানান। আমাদের ধারণা, তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর। তা না হলে আওয়ামী লীগের সময়ে করা মিথ্যা বানোয়াট রাজনৈতিক মামলায় নিরপরাধ নেতাকর্মীদের হয়রানি করতেন না। আমরা তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম টিপু জানান, আগের ধার্য তারিখে আদালতের নথিতে গরমিল থাকায় পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করা হলে বিজ্ঞ বিচারক চারজনের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে বিদ্যুৎ না থাকা নিয়ে বিচারক মন্তব্য করায় এবং ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটিকে অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল ওদুদ বলেন, ‘চারজনের জামিন মঞ্জুর হলেও আটক এক আসামির জামিন আবেদনের আগেই বিচারক আসন ত্যাগ করেন। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে কিছু বহিরাগত এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটিয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. শহীদুল্লাহ জানান, খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, পুলিশ পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়েছে। আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
- বিষয় :
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ
- বিএনপি
- আদালত