শিক্ষার্থীকে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ, আন্দোলনের মুখে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ
ছবি-সংগৃহীত
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ২৩:০৮
রাজশাহীর বাঘায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে রোববার পদত্যাগ করেছেন মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুস সামাদ। শিক্ষার্থীকে অনৈতিক প্রস্তাব ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনা আড়াল করতে সহযোগিতার অভিযোগে সহকারী শিক্ষককে সাসপেন্ডের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।
জানা গেছে, গত জুন মাসের শেষের দিকে প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুস সামাদ এক শিক্ষার্থীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং শ্লীলতাহানি করেন। এর প্রতিবাদে রোববার শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করে। দুপুরে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে বিকেলে বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে পুলিশ ভ্যানে উঠার সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষককে লক্ষ্য করে ডিম ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে তাঁকে পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় বহিরাগতরা বিদ্যালয়ের ঢুকে পড়ে।
খবর পেয়ে সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ বিদ্যালয়ে আসেন। তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন। জিজ্ঞাসাবাদে সহকারী শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে ঘটনা আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগ উঠে। তাঁকে সাময়িক সাসপেন্ড করার মৌখিক নির্দেশ দেন সংসদ সদস্য।
এ সময় বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফরসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মনিগ্ৰাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ মুকুল বলেন, বহিরাগতদের প্রবেশের কারণে পরিবেশ নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে তারা সজাগ ছিলেন।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ বলেন, ৫ আগস্টের পর স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে উপস্থিত ছিলাম না। রোববার স্কুলে আসার পর ‘শিক্ষার্থীরা আমাকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে। কোনো সহকর্মী এগিয়ে আসেননি। চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছি। তিনি বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা।’
জ্যেষ্ঠ শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, বিশৃঙ্খলার কারণে বিদ্যালয় সময়সূচির মধ্যে কোনো ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত করা হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর বলেন, প্রধান শিক্ষক স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। আর সত্যতা প্রমাণ হলে সহকারী শিক্ষকের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবে ম্যানেজিং কমিটি।
এমপি আবু সাইদ চাঁদ বলেছেন, অনৈতিক আচরণের অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
- বিষয় :
- রাজশাহী
- শিক্ষক
- পদত্যাগ
- শ্লীলতাহানি