সাভার
৮ বছর ধরে বাড়িতে অবরুদ্ধ বৃদ্ধ দম্পতি
বাড়ির সামনে প্রতিবেশী দেয়াল নির্মাণ করায় মই দিয়ে অন্যের বাসার ছাদ পার হয়ে বাইরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের রাজফুলবাড়িয়ায়। ছবি: সমকাল
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:২৫
বাড়ির প্রধান ফটকটি খোলা থাকলেও বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। প্রধান ফটকের সামনেই প্রায় ১০-১২ ফুট উঁচু প্রাচীর নির্মাণ করেছেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী। বাড়িতেই এক প্রকার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধ দম্পতি। নিরুপায় হয়ে পাশের বাড়ির ছাদে কাঠের মই বসিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। গত ৮ বছর ধরে এভাবেই বাড়ির বাইরে যাতায়াত করছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনাটি সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার নগরচর গ্রামের।
ভুক্তভোগী দম্পতি হলেন- ঝালকাঠি সদরের মানপয়সা গ্রামের আনিসুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী রাশিদা বেগম। ১৯৯৫ সালে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের নগরচর গ্রামে চার শতাংশ জায়গা কিনে বাড়ি করেন তারা।
গতকাল রোববার সরেজমিন দেখা যায়, বয়সের ভারে নুয়ে পড়ছেন বৃদ্ধ আনিসুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী রাশিদা বেগম। যেখানে স্বাভাবিকভাবে সমতল রাস্তায় হাঁটাচলা করাই কষ্টকর, সেখানে মই বেয়ে দেয়াল বা ছাদ টপকিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন তারা। মই থেকে একটু পা পিছলে গেলেই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তো বাড়ির বাইরে বের করার উপায় নেই।
ভুক্তভোগী আনিসুর রহমান জানান, ১৯৯৫ সালে সাভারে রাজফুলবাড়ির নগরচরে এসে জমি কিনে বাড়ি করেছেন। জমির পাশেই রাস্তা ছিল। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী আসলাম হোসেন বিগত সরকারের সময় তাঁর জমি জোর করে ১০ লাখ টাকা দিয়ে কিনে নিতে চান। কিন্তু তিনি দিতে রাজি হননি। পরে আসলাম জোর করে বাড়ির ফটকের সামনে দেয়াল নির্মাণ করে বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেন। তাই বাধ্য হয়ে প্রায় ৮ বছর ধরে মই বেয়ে অন্যের বাড়ির ছাদে ওঠে তারপরে বাড়ি থেকে বের হন তারা।
তাঁর স্ত্রী রাশিদা বেগম বলেন, তাদের বাড়িতে কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়া অনেক কষ্টকর। অন্যের বাড়ির ছাদের ওপর দিয়ে বের হয়ে হাসপাতালে নিতে হয়।
অভিযুক্ত আসলামকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর বাড়ির ম্যানেজার জিয়াউর রহমান জানান, রেজা নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে আসলাম চার শতাংশ জমি কিনে নেন। এরপর আনিসুর রহমান হঠাৎ বিএস রেকর্ডে জমির পাশ দিয়ে একটি রাস্তা রেকর্ড করে নেন। পরে আসলাম বিএস রেকর্ড বাতিলের জন্য আদালতে একটি মামলা করেছেন।
ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘আমি বিষয়টি খবর নিচ্ছি। তবে ভুক্তভোগী পরিবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।’
ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম জানান, মাঠ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে দখল করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- সাভার