দাখিলে টানা দুই বছর পাসের হার শূন্য যে মাদরাসায়
এবার গণিপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়।
আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:৪২ | আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:৪৫
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গণিপুর দাখিল মাদ্রাসায় টানা দুই বছর দাখিল পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। ২০২৫ সালের মতো এবারও প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এতে মাদ্রাসাটির শিক্ষার মান ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আজ সোমবার সকাল ১০টায় ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা যায়। ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এবার গণিপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
এর আগে ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। ওই বছরও সবাই অকৃতকার্য হয়। অর্থাৎ টানা দুই বছরে প্রতিষ্ঠানটির ৪০ জন পরীক্ষার্থীর কেউই দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
আক্কেলপুর উপজেলায় এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক ফলও আশাব্যঞ্জক নয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার ১০টি মাদ্রাসা থেকে মোট ২০৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৫ জন। পাসের হার ২৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। অকৃতকার্য হয়েছে ১৪৮ জন।
তবে উপজেলার অন্যান্য মাদ্রাসার তুলনায় গণিপুর দাখিল মাদ্রাসার ফল সবচেয়ে হতাশাজনক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। টানা দুই বছর কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, পাঠদানের পরিবেশ ও একাডেমিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে টানা দুই বছর কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা স্বাভাবিক বিষয় নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা কেন ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে, সেটিও খুঁজে বের করা দরকার।
অভিযোগের বিষয়ে গণিপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এখন ভীষণ ব্যস্ত আছি। একটি মিটিংয়ে যাব। এ বিষয়ে কথা বলতে পারব না।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাবেদ ইকবাল হাসান বলেন, টানা দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ফলাফল কেন এমন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর-রহমান বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা দুই বছর কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি কোনোভাবেই স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।