ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৭৯ বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা

৭৯ বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা
×

ফাইল ছবি

দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩০ | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ১০:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ৭৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা। এসব প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রধান শিক্ষকের কাজ। যে কারণে পাঠদানসহ প্রশাসনিক কাজে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। এই অবস্থায় দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ১৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৬০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রয়েছে। বাকি ৭৯টি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের কাজ করছেন সহকারী শিক্ষকরা।

বেসরকারি অবস্থায় ৯টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ছিলেন। পরে জাতীয়করণ হলে গেজেটে তাদের সহকারী শিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়। বিষয়টিতে আপত্তি জানিয়ে প্রধান শিক্ষক পদের দাবিতে শিক্ষা বিভাগে মামলা করে দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা। যে কারণে ওই ৯টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। 

মামলার কারণে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে- নতুন হলকারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মদনেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডাকরাগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চেংটিমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মৌলভীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুন্সীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ চেংটিমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনাকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ মাখনেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এ ছাড়া প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব রয়েছে ২৩টি বিদ্যালয়ে। বাকি ৪৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদটি দীর্ঘদিন থেকে শূন্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মানোন্নয়ন ও পাঠদান সমুন্নত রাখতে ৪৭টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই সব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের স্থায়ী দায়িত্বের জন্য সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতির প্রস্তাব করা হবে।

ডাকরাগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একেএম শফিকুল ইসলাম জানান, তাঁর নিয়োগ হয়েছে জাতীয়করণের আগে। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি তখনকার নীতিমালা অনুযায়ী তাঁকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। পরে গেজেটের সময় তাঁকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের পদ ফিরে পেতে শিক্ষা বিভাগে মামলা করেছেন তিনি। মামলা চলমান রয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁকে আগের প্রধান শিক্ষকের পদে বহাল রাখা হোক।

মোয়ামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক আশরাফুন্নাহারের ভাষ্য, তিনি ২০১৮ সালের অক্টোবরে যোগদান করেছেন। তখন থেকে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। তাঁকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। পদোন্নতির জন্য কাগজপত্র অফিসে জমা দেননি। তবে খুব শিগগিরই জমা দেবেন বলে জানান তিনি।

সবুজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল হক ফারুকী জানান, ২০২৩ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। এর আগেও কয়েক বছর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। পদোন্নতি দিয়ে তাঁকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

সবুজপুর গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, সবুজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়টিতে পাঠদান প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা সহকারী শিক্ষকদের দায়িত্ব। সহকারী শিক্ষককে যদি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় তবে তাঁকে বিদ্যালয়ের কাগজপত্র ও প্রশাসনিক কাজেই ব্যস্ত থাকতে হয়। এ কারণে বিদ্যালয়ে পাঠদান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই সেসব বিদ্যালয়ে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা অফিস নিয়মিত তদারকি করে যাচ্ছে। যাতে বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল থাকে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান প্রক্রিয়া সমুন্নত থাকে। তবে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণে সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতির সুপারিশ করে কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×