ঢাকা শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

বরিশাল আদালতপাড়ায় বিস্ফোরণ

পুঁতে রাখা বিস্ফোরক নাকি নিক্ষেপ করা হয়েছে— ধোঁয়াশা

পুঁতে রাখা বিস্ফোরক নাকি নিক্ষেপ করা হয়েছে— ধোঁয়াশা
×

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ

বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৩৬ | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৩৯

বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতপাড়ার মধ্যে বুধবার বিস্ফোরিত হওয়া বিস্ফোরকটি ঘটনাস্থলে আগে পুঁতে রাখা হয়েছিল নাকি নিক্ষেপ করা হয়েছে— বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও এ বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট জবাব দিচ্ছে না। এমনকি বিস্ফোরকের ধরন ও প্রকৃতি সম্পর্কে এখনও সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। এসব নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলা হলে পুলিশের দায়িত্বশীলরা উত্তর দিচ্ছেন- ‘তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন ছাড়া কিছু বলা যাবে না।’

জানা গেছে, বুধবার বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সভাকক্ষে কয়েকঘণ্টা রুদ্ধ সভা হয়। সব বিচারক ও মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ সব ইউনিনেটর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। 

সভায় অংশ নেওয়া এক বিচারক নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আলোচনায় প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বিস্ফোরকটি আগেই পুঁতে রাখা হয়েছিলে। আদালতের পুরো চত্বরটি সিসি ক্যামেরার আওতায়। এমনকি বিস্ফোরণের ঘটনাটিও সিসি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। 

এ ক্ষেত্রে বিস্ফোরক পুঁতে রাখার ঘটনাটি সিটি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে কিনা প্রসঙ্গে ওই বিচারক জানান, গত কয়েকদিনের বিদ্যুৎ সংকটে আদালত এলাকায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হয়েছে। বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলে সিসি ক্যামেরা কার্যকর থাকে না। ধারণা করা হচ্ছে, লোডশেডিং চলাকালে বিস্ফোরক পুঁতে রাখা হয়। 

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে আদালতপাড়ায় প্রবেশের সবকটি পথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আগতদের কারও ব্যাগ সন্দেহজনক হলে পুলিশ সেটি তল্লাশি করছে। 

বিস্ফোরণকালীন ঘটনাটির সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, বিস্ফোরক বস্তু নিক্ষেপ করা হয়েছে এমনটাও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। 

পুলিশের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, পুরো ঘটনাটি তদন্ত করছে সিআইডির ক্রাইমনসিন ইউনিট। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ক্রাইম সিন ইনচার্জ খলিলুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে কাচের গুঁড়া, প্লাস্টিকের টুকরা ও বারুদের উপকরণ সংগ্রহ করছেন। সিআইডির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে জানান, ঘটনাস্থলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা ব্যাপক বিধ্বংসী কোনো আলামত পাওয়া যায়নি, তবে বিস্ফোরণের ধরন ও ব্যবহৃত উপাদান পরীক্ষার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা যাবে না।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সমকালকে জানান, আদালতে চত্বরে বিস্ফোরণের ঘটনায় কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক মো. কামরুল হায়দার রুবেল বাদী হয়ে বুধবার রাতে মামলা করেছেন। তবে এতে নামধারী কাউকে আসামি করা হয়নি। 

বিস্ফোরকটি ঘটনাস্থলে আগেই পুঁতে রাখা হয়েছিল নাকি নিক্ষেপ করা হয়েছে—এ প্রশ্নে ওসি বললেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না। 

অপরদিকে, বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মোহাম্মদ সালেহের ভাষ্যমতে, সিসিটিভি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে ধারণা করা হচ্ছে, বাহির থেকে বিস্ফোরকদ্রব্যটি কেউ ভেতরে ছুড়েছে। তারপরও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। পুলিশ কমিশনারের দাবি, বিস্ফোরকটি বোমা কিংবা পটকা ককটেল ছিল না, এটি পটকা জাতীয় কিছু হবে। ভীতি সৃষ্টির জন্য কে বা কারা আদালতপাড়ায় বিস্ফোরণটি ঘটিয়েছে।

উল্লেখ্য, বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে আদালত কম্পাউন্ডে প্রবেশে প্রধান ফটকের পশ্চিম পাশের পিলারের কাছাকাছি একটি বিস্ফোরণ হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হননি। এ ফটকটি পেরুলেই চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নবম তলা ভবন। এ ঘটনায় আদালতপাড়ায় বোমাতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন

×