ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুলিশ আতঙ্কে ট্রলার থেকে ঝাঁপ, দুদিন পর মিলল লাশ

পুলিশ আতঙ্কে ট্রলার থেকে ঝাঁপ, দুদিন পর মিলল লাশ
×

 গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০০

| প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশ আতঙ্কে ট্রলার থেকে তুরাগ নদে ঝাঁপিয়ে পড়া মোয়াজ্জেম হোসেনের (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার দুদিন পর গতকাল শুক্রবার সকালে গাজীপুরের কড্ডা এলাকায় ভেসে ওঠে তাঁর মরদেহ।
মোয়াজ্জেম হোসেন গাজীপুর নগরের খালিশাবর্তা এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।

নদে ঝাঁপিয়ে পড়ার ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার রাতে। পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাজীপুরের তুরাগ নদের কাউলতিয়া, কারখানা বাজার, কড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে নৌকা ও ট্রলারে বসে জুয়া এবং মাদকের আড্ডা বসছে। নদে অবস্থান করায় এসব আড্ডায় অভিযান চালিয়ে জড়িতদের আটক করা কঠিন হয়ে পড়ে। গত বুধবার রাতে মোয়াজ্জেমসহ ৪-৫ জন তুরাগে একটি ট্রলারে বসেছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেখানে জুয়া চলছিল। একপর্যায়ে অন্য একটি ট্রলারে কয়েকজন লোক তাদের কাছে আসেন। তাদের দেখে পুলিশ এসেছে বলে ধারণা করেন মোয়াজ্জেমরা। এরপর আতঙ্কে চারজন পানিতে ঝাঁপ দেন। তিনজন  সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও মোয়াজ্জেম উঠতে পারেননি। ঘটনার সময় সেখানে পুলিশের কোনো অভিযান ছিল না বলে জানিয়েছে গাজীপুর সদর থানা।

মোয়াজ্জেম হোসেনের চাচাতো ভাই দেলোয়ার হোসেনের দাবি, ৫-৬ জন ট্রলারে এসে তাদের দ্রুত নেমে আসতে বলেন। না নামলে গুলি করার হুমকিও দেওয়া হয়। এ সময় ভয়ে ৪ জন নদে ঝাঁপ দেন। 
মোয়াজ্জেম হোসেন নিখোঁজের পর স্থানীয় লোকজন নদে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু রাতভর সন্ধান করেও তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ডুবুরি দল তুরাগে উদ্ধার অভিযান চালায়। দিনভর তল্লাশি চালিয়েও মোয়াজ্জেমের সন্ধান মেলেনি। গতকাল ভোরে কড্ডা এলাকায় নদে তার মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। 
গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই দিন সেখানে পুলিশের কোনো অভিযান চালানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা জুয়া খেলছিলেন। কয়েকজনকে দেখে পুলিশ মনে করে ভয় পেয়ে তারা নদে ঝাঁপ দেন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। 

আরও পড়ুন

×