ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসামির তালিকায় নেই বাবুল নেপথ্যে ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ

আসামির তালিকায় নেই বাবুল নেপথ্যে ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ
×

সিলেটে আলোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার সাত্তার-সুরাইয়ার পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে গতকাল শনিবার সাক্ষাৎ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সমকাল

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট নগরীর আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগম দম্পতির প্রবাসী কন্যা বাদী হয়ে মামলা করেন। হত্যার দায় শিকারের পরেও আসামি করা হয়নি গ্রেপ্তারকৃত রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়াকে।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিহত দম্পতির যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কন্যা সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় ওই মামলা দায়ের করেন। বাদীর দাবি, গৃহপরিচারিকা ও রংমিস্ত্রির প্রেম নয়, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ।

সেলিনা সুলতানা জানান, খুন কে করেছে কেউ দেখেনি বলেই অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বাদী পক্ষ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পুলিশের দেওয়া ‘প্রেম-সংক্রান্ত’ ব্যাখ্যার প্রতি সমর্থন না জানিয়ে দাবি করেছেন, ভূমি-সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধের জেরে ভাড়াটে খুনিদের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
গতকাল শনিবার নিহত দম্পতির স্বজনদের সমবেদনা জানাতে তাদের বাসায় যান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং সুষ্ঠু বিচারের জন্য প্রকৃত অপরাধী ও এর নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন পুলিশকে।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বাদী সেলিনা জানান, ঘটনার দিন আশপাশের প্রত্যক্ষদর্শীরা লাল জামা পরিহিত বাবুলকে নয়, ভিন্ন রঙের পোশাক পরা অন্য এক ব্যক্তিকে এলাকা ত্যাগ করতে দেখেছেন। এ ছাড়া বাসা থেকে কোনো টাকা-পয়সা বা স্বর্ণালংকার চুরি হয়নি; কেবল জায়গা-জমি ও দলিলাদি-সংক্রান্ত নথিপত্র এবং জিডির কপি নিয়ে গেছে আততায়ীরা। ফলে স্বত্ব মামলার দলিল রক্ষার্থেই যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নগরীর রিকাবীবাজার এলাকায় পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির কাছ থেকে ইজারা নেওয়া ১২ শতক জমিতে বাস করতেন নিহত আব্দুস সাত্তার। ওই জায়গা এবং সমিতির জমিতে নির্মিতব্য ইম্পালস টাওয়ারের চেয়ারম্যান ও বিতর্কিত আইনজীবী সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে জমি নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধ ও হুমকি-ধমকির ঘটনা চলছিল। সিরাজুল ইসলাম গির্জা সমিতির জমি-সংক্রান্ত প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলায় একাধিকবার কারাভোগ করেছেন।

এজাহারে বাদী আরও জানান, ২০০৬ সালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে লুসাই গির্জা সমিতির ৮০ শতক জমি নিজের নামে দাবি করেন সিরাজুল ইসলাম। এর প্রতিবাদে ২০১৬ সালে নিহত আব্দুস সাত্তার আদালতে স্বত্ব মামলা দায়ের করেন, যা এখনও বিচারাধীন। এই মামলা প্রত্যাহারের জন্য সিরাজুল ইসলাম এবং তাঁর লোকজন বিভিন্ন সময় নিহতের পরিবার ও তাদের আইনজীবীকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। হুমকি দেওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছিল।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাড়াটে খুনিদের মাধ্যমে মিতালী আবাসিক এলাকার বাসায় ঢুকে আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনাকে হত্যা করা হয়।

অভিযুক্ত আইনজীবী সিরাজুল ইসলামের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক সময়ের সক্রিয় রাজনীতিবিদ সিরাজুল ইসলাম ছিলেন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। একাধিক ঘটনায় বিতর্কিত হওয়ার কারণে নিজেদের ইমেজ রক্ষায় দলীয় কার্যক্রম থেকে তাঁকে দূরে রাখা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময় তাঁর বিরুদ্ধে দলিল জালিয়াতি, জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও ভুয়া নামজারির অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায়। এমনি অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২১ সালে তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০২২ সালের আগস্টে দুদকের ওই মামলায় তিনি জেল খাটেন। এ ছাড়া চেক জালিয়াতি ও অন্যান্য প্রতারণা মামলায়ও একাধিকবার জেল খাটেন তিনি।
এসএমপির কোতোয়ালি থানার ওসি খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, নিহতের মেয়ের এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×