ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সেই বাপ্পিকে ছেড়ে দেওয়ায় থানা ঘেরাও, সড়ক অবরোধ

পাবনায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মহড়া

সেই বাপ্পিকে ছেড়ে দেওয়ায় থানা ঘেরাও, সড়ক অবরোধ
×
×

ছবি- সমকাল

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ২৩:০১

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা শহরে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে সড়কে মহড়া দেওয়া ছাত্রদলের সাবেক নেতা দাবি করা জুবায়ের হোসেন বাপ্পিকে গত সোমবার রাতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করেন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের একাংশের নেতাকর্মীরা।

সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত অবরোধ চলাকালে সড়কের উভয় পাশে প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। 

অবরোধকারীরা বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, শরিফুল ইসলাম তুহিন, ইমরুল কায়েস সুমনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। এ সময় জুবায়ের বাপ্পিকে থানা থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমানের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন তারা। 

রাত আটটার দিকে বিএনপির কয়েকজন নেতা থানায় গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ও থানার ওসি আশাদুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপর অবরোধ স্থগিতের ঘোষণা দেন। তবে নেতারা থানা ফটকের সামনে পথসভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আমরা প্রশাসনের ভূমিকায় হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছি কিন্তু আন্দোলন থেকে সরে যাবো না।'

এ সময় বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জনি, ঈশ্বরদী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি নান্নু রহমান, বিএনপি নেতা ইসলাম হোসেন জুয়েল, মাহমুদুর রহমান জুয়েল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান প্রমুখ। 

মেহেদী হাসান বলেন, 'আমরা পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকায় হতাশ হয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা ভেবে সড়ক ছেড়ে চলে যাচ্ছি। তবে জনগণের স্বার্থে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।'  

ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান আসাদ বলেন, জুবায়ের বাপ্পির বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তাকে পাবনা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। সোমবার রাতেই মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয় ডিবি। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি জানিয়েছে, একজন প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতার হস্তক্ষেপে সোমবার রাতে বাপ্পিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শহরের কলেজ রোডের নিজ বাড়ি থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বের হন বাপ্পি। তার মাথায় কাফনের কাপড় বাঁধা ছিল। তিনি শহরের প্রায় দুই কিলোমিটার পথে হেঁটে হেঁটে মহড়া দেন। এ সময় দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সুলভ মালিথা তার পাশাপাশি হাঁটছিলেন। পরে বাপ্পি রেলগেটের জিরো পয়েন্টে যান। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বক্তব্যও রাখেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে থানায় যান। খবর পেয়ে ছাত্রদল, যুবদল ও জামায়াতে ইসলামীর একদল নেতাকর্মী থানা ঘেরাও করে বাপ্পিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একপর্যায়ে বাপ্পিকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে ডিবি হেফাজত থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

কোনো পদে না থাকলেও বাপ্পি নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা দাবি করেন। তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী।  

গত শুক্রবার বাপ্পি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানকে ‘সন্ত্রাসী, খুনি, মাদক ব্যবসায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। 

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান বলেন, ‘জুবায়ের বাপ্পি প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে মহড়া দেয়। আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে রেলগেট ট্রাফিক আইল্যান্ডে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিয়েছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তার ও তাঁর অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করার দাবি জানিয়েছি।’ 

জুবায়ের বাপ্পি বলছেন, ‘আমি মাদক, সুদখোরদের বিরুদ্ধে এবং আমাকে যারা হত্যার হুমকি দিয়েছে, তাদের ওপেন চ্যালেঞ্জ জানাতে রাস্তায় নেমেছিলাম।’

ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান, বাপ্পির হাতের শটগানটি তার নিজের নামে লাইসেন্স করা। আগ্নেয়াস্ত্রটি নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়ার পর এটির লাইসেন্স বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেছি। 

আরও পড়ুন

×