বিস্ফোরক আইনের মামলা
কুমিল্লায় নারীসহ ৩ জেএমবি সদস্যের কারাদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৩১
কুমিল্লায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা একটি মামলায় প্রায় ২০ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দুই আসামিকে ২০ বছর এবং এক নারী আসামিকে ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৬) আদালত এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন– নওগাঁ জেলার কলমীডাঙ্গা গ্রামের মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মিন্টু, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া এলাকার মোহাম্মদ দুরুল হুদা ওরফে হাসান ও দুরুল হুদার স্ত্রী খালেদা আক্তার রানী।
মামলায় বলা হয়, ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ গভীর রাতে জেএমবি সদস্যদের নাশকতার পরিকল্পনার খবর পেয়ে কুমিল্লা নগরীর বিষ্ণুপুর এলাকার রৌশন ভিলায় র্যাবের অভিযান পরিচালিত হয়। রাতভর ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে র্যাব সদস্যরা বোমা তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য, রাসায়নিক পদার্থ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং বোমা তৈরির ইলেকট্রিক ডেটোনেটর, ব্যাটারিসহ বেশ কিছু উপকরণ জব্দ করেন। এ ঘটনায় র্যাব-৭ এর ডিএডি মো. জয়নাল আবেদীন কোতোয়ালি মডেল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন।
ঢাকায় তৎকালীন র্যাবের সদরদপ্তরের হেফাজতে থাকা জেএমবি নেতা শায়খ আবদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষ্ণুপুর এলাকায় জেএমবি সদস্যদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তাদের আটক করতে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কুমিল্লা আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, এ মামলাটি বেশ আলোচিত। মামলায় ১৩ সাক্ষীর জবানবন্দি, আসামিদের বক্তব্য, জব্দ তালিকা এবং অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে আদালত দণ্ডাদেশ দিয়েছেন। আদালত খালেদা আক্তার রানীর সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার তিন সন্তান থাকা, তার স্বামী কারাগারে থাকা এবং তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকার বিষয় বিবেচনায় নিয়েছেন বলে রায়ে উল্লেখ রয়েছে। রায়ের পর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আসামিদের কারাগারে নেওয়া হয়।