এআই ক্যামেরায় নজরদারি দুই দিনে ৫ শতাধিক মামলা
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫৫ | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ ক্যামেরার নজরদারি শুরু হতেই ধরা পড়ছে একের পর এক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন। গত দুই দিনে (গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত) যানবাহনের গতি, উল্টো পথে চলাচল, অবৈধ পার্কিং, দুর্ঘটনা নিরূপণসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ৫০২টি মামলা করা হয়েছে। সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় এআই ক্যামেরা মনিটরিং ডেটা সেন্টারের ইনচার্জ আনিছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়ক স্বয়ংক্রিয় নজরদারির আওতায় রয়েছে। মহাসড়কের ৪৯০টি পয়েন্টে বসানো হয়েছে এক হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা। এর মধ্যে কুমিল্লার ১০৫ কিলোমিটার অংশে আছে ১৯৯টি। ক্যামেরাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারে। অতিরিক্ত গতি, নির্ধারিত লেন না মানা, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, উল্টো পথে চলাচল, অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত হলে তৈরি হচ্ছে ডিজিটাল মামলা। সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের মোবাইল নম্বরে পাঠানো হচ্ছে এ-সংক্রান্ত বার্তা।
এর আগে গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
এআই ক্যামেরা মনিটরিং ডেটা সেন্টারের ইনচার্জ আনিছুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার গাড়ির সর্বোচ্চ ৮০ থেকে ৮৫ গতিসীমা নির্দিষ্ট ছিল, বুধবার তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ গতিসীমা করা হয়েছে ৯০। বেশির ভাগ মামলা হচ্ছে গতিসীমা লঙ্ঘন করার অপরাধে। তবে ধীরে ধীরে সবাই সতর্ক হয়ে যাচ্ছেন।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে। অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চালানোর কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এআইভিত্তিক নজরদারি চালু হলে আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা কমার পাশাপাশি চালকদের মধ্যে বাড়বে সচেতনতা ও শৃঙ্খলা। তবে হঠাৎ চালু করা এ প্রযুক্তির বিষয়ে যানবাহন চালকদের মাঝে ব্যাপক প্রচারণার দাবি করেছেন মালিক শ্রমিক সংগঠনগুলো।
কুমিল্লা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, উন্নত দেশের প্রযুক্তির এ ছোঁয়া আমাদের মহাসড়কে যুক্ত হয়েছে। তবে প্রযুক্তিটি নিয়ে আমাদের পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে আরও প্রচারণা দরকার। এতে সরকারের উদ্যোগ সফল হবে।
হাইওয়ে কুমিল্লা রিজিওনের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন, এআই ক্যামেরায় ট্রাফিক আইন ভঙ্গের প্রবণতা কমার পাশাপাশি সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে। ইতোমধ্যে সেটির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।