ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুহুরির যোগসাজশে ভুয়া চালক সাজিয়ে জব্দ গাড়ি খালাস

মুহুরির যোগসাজশে ভুয়া চালক সাজিয়ে জব্দ গাড়ি খালাস
×

ছালেক আহমদ

 সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট শহরতলির গইলাপাড়ার ছালেক আহমদ। এখন পর্যন্ত কোনোদিন পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হননি তিনি, না তাঁর আছে কোনো যানবাহন। আর না জানেন তিনি ড্রাইভিং। অথচ কিডনি রোগে আক্রান্ত এই ব্যক্তিকে চালক বানিয়ে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে আদালত থেকে একের পর এক জব্দকৃত গাড়ি ছাড়িয়ে নিচ্ছে একটি চক্র।
অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে চক্রটিকে লাগাতার সহায়তা দিচ্ছেন এক আইনজীবীর মুহুরি। চক্রটি মূলত চোরাই পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হওয়ায় পুলিশের হাতে জব্দ ট্রাক ও পিকআপ ছাড়িয়ে নিতে মূল মালিকদের সহায়তা করে থাকে।

তথ্যের সূত্র ধরে ভুক্তভোগী ছালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দুই বছর আগে তাঁর নামে এক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। পরে আদালত তাঁকে অব্যাহতি দেন। কিন্তু সম্প্রতি একই কৌশলে তাঁকে আরও দুটি গাড়ির চালক দেখিয়ে পরোয়ানা জারি করা হলে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেন। জালিয়াতির অভিযোগে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনের বিরুদ্ধে সিলেটে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন তিনি। বিচারক ফারহানা সুলতানা অভিযোগটি আমলে নিয়ে ১ নভেম্বরের মধ্যে পিবিআইর পুলিশ সুপারকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আদালতপাড়ায় সক্রিয় এই চক্রটি ভারতীয় চোরাই পণ্যসহ আটক ট্রাক ও পিকআপের মূল মালিক ও চালকের নাম-ঠিকানা গোপন করে। তারা অসুস্থ বা নির্দোষ ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে গাড়ি জামিনে ছাড়িয়ে নেয়।
২০২৪ সালে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানা কর্তৃক জব্দ করা একটি পিকআপের ঘটনায় ছালেককে ভুয়া চালক সাজানো হয়। আদালত থেকে রেহাই পাওয়ার পর সম্প্রতি শাহপরান থানার আরও দুটি চোরাচালান মামলায় (জিআর-৪০/২৫ ও জিআর-১৫৭/২৫) তাঁকে পুনরায় চালক দেখিয়ে যথাক্রমে ফয়সল আহমদ ও নুর জাহান আক্তার নূরী নামে দুজনের দুটি পিকআপ ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। আদালতে হাজির না হওয়ায় ছালেকের বিরুদ্ধে আবার পরোয়ানা জারি হলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছালেকের করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে এক আইনজীবীর সহকারী (মুহুরি), জৈন্তাপুরের বাসিন্দা জামাল আহমদকে। অন্য দুই আসামি হলেন পিকআপ মালিক ফয়সল আহমদ ও নুর জাহান আক্তার নূরী।

অভিযোগের বিষয়ে আইনজীবীর সহকারী জামাল আহমদ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তবে পিকআপ মালিক ফয়সল আহমদ বলেন, গাড়ি ছাড়ানোর জন্য মুহুরি জামালকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি কীভাবে কাজ করেছেন তা তার জানা নেই।
বিষয়টি নিজেদের এখতিয়ার বহির্ভূত দাবি করেছেন কোর্ট ইনস্পেক্টর সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। আর শাহপরান থানার ওসি ফেরদৌস আহমদ জানান, তিনি থানায় নতুন যোগ দিয়েছেন। তৎকালীন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কে ছিলেন তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।
জেলা বারের আইনজীবী ও সাবেক অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি নাজমুল হুদা জানান, যারা কাগজপত্র জমা দেয় তা সঠিক কিনা, তাৎক্ষণিক খতিয়ে দেখা হয় না অনেক সময়। আদালতে উপস্থাপন যারা করেন তাদের দায় আছে সেই কাগজ সঠিক কিনা। অপরকে চালক দেখিয়ে প্রতারণা বিষয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে দায় তদন্ত কর্মকর্তার। আদালতে উপস্থাপিত জাতীয় পরিচয়পত্রে তো আর পেশা লেখা থাকে না। প্রকৃত মালিক কিংবা চালক ঠিক আছে কিনা, তা তদন্ত কর্মকর্তাকে দেখতে হবে।

আরও পড়ুন

×