কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র চালুর অপেক্ষায় ছয় বছর
অব্যবহৃত পড়ে আছে উলিপুরে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র সমকাল
মোন্নাফ আলী, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:০৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
উলিপুরে ছয় কোটি টাকায় নির্মিত কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্রটি চালু হয়নি ছয় বছরেও। ফলে পড়ে থেকে মেশিনপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কবে নাগাদ কেন্দ্রটি চালু হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেনি।
জনবল সংকট ও নীতিমালা জটিলতায় এমন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে পুরো প্রকল্পের অর্থ জলে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এদিকে কেন্দ্রটি চালু না হওয়ায় প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ ও যথাযথভাবে বাজারজাত করা যাচ্ছে না। সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম ও জামালপুর জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাসকরণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়া ২০১৮ সালে কুড়িগ্রাম জেলার চারটি ও জামালপুর জেলার চারটি উপজেলায় কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তায় এগুলো নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্র প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে নির্মাণকাজ শেষ হয়। এরপর মেশিনপত্র বসিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট আরডিএর কাছে এটি হস্তান্তর করে। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রগুলো চালু করতে পারেনি আরডিএ। কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবল না থাকায় কেন্দ্রগুলো চালু করা যাচ্ছে না, তাই নীতিমালা পরিবর্তন করে সমবায়ভিত্তিক সমিতি, এনজিও অথবা আগ্রহী উদ্যোক্তাকে তিন বছর মেয়াদে লিজ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জেলার বাকি তিনটি কেন্দ্রেরও একই অবস্থা।
কেন্দ্রগুলোতে ধান, গম, সরিষা ভাঙানো, মসলা, চিপস, বেকারি, দুধ, মাছ, মাংস সংরক্ষণে পলিং চেম্বার, সহকৃষিপণ্য সংরক্ষণ, বাজারজাত ও প্রক্রিয়াজাতের ব্যবস্থা রয়েছে। কেন্দ্রটি চালু হলে ২০ জন মানুষের কর্মসংস্থান হবে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় কেন্দ্রে স্থাপন করা মেশিনগুলো আর কার্যকর নেই বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেন্দ্রের পাহারাদার মো. মাসুদ রানা ও রাসেল মিয়া বলেন, আমাদের দায়িত্ব পাহারা দেওয়া। এর বাইরে কিছু করার নেই। তবে কিছু জিনিস চুরি যাওয়ার কথা স্বীকার করেন তারা।
উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। প্রকল্প সম্পর্কে অবগত নন। বিষয়টির খোঁজখবর নেবেন বলে জানান তিনি। রংপুর পল্লী উন্নয়ন একাডেমির পরিচালক জাহেদুল হক চৌধুরী বলেন, একাডেমির আগের নীতিমালা অনুযায়ী কেন্দ্রগুলো নিজস্ব জনবল দিয়ে পরিচালনা করার কথা। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে এগুলো চালু করা যাচ্ছে না। নীতিমালা পরিবর্তন করে টেন্ডারের মাধ্যমে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কবে নাগাদ চালু হবে সে ব্যাপারে কিছু বলতে পারেননি তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কেন্দ্র পরিচালনা উপজেলা কমিটির সভাপতি এ টি এম আরিফ বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার যোগাযোগ করেনি।
- বিষয় :
- কৃষি