ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কর পরিশোধে চসিককে চিঠি ভূমি অফিসের

চট্টগ্রাম নগরে সড়ক কর আরোপ, ৫০ বছরে বকেয়া ২১৩ কোটি

সড়ক কর নিয়ে মুখোমুখি সিটি করপোরেশন-জেলা প্রশাসন

চট্টগ্রাম নগরে সড়ক কর আরোপ, ৫০ বছরে বকেয়া ২১৩ কোটি
×

ছবি: সংগৃহীত

আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫১ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ১০:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সড়কের ওপর কর বসিয়েছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস। গত ৫০ বছরে এক হাজার ৪৪২ কিলোমিটার সড়কের করের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১৩ কোটি টাকা। এই বকেয়া কর পরিশোধের জন্য চসিককে চিঠি দিয়েছে আগ্রাবাদ ভূমি অফিস। 

এর আগে কখনও সড়ক কর আরোপ করা হয়নি। তাই তা পরিশোধে নারাজ চসিক। কিন্তু বকেয়া কর আদায়ে কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা। তারা চসিকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ভূমি রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত সব সেবা দেওয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সাধারণ নাগরিকরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় থাকা সিটি করপোরেশনের ১৫ একর ‘নগর সড়কের’ ওপর বছরে ৯৪ হাজার ৩২০ টাকা ট্যাক্স বসিয়েছে আগ্রাবাদ ভূমি অফিস। ১৩৮৩ থেকে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ৫০ বছরের বকেয়া ৪২ লাখ ১১ হাজার ৮৪৮ টাকা ট্যাক্স পরিশোধের জন্য চসিককে চিঠি দিয়েছে। 

নগরের গোসাইলডাঙ্গা এলাকার সাড়ে ১২ একর সড়কের ওপর বছরে ৭৫ হাজার টাকা কর ধার্য করে ভূমি অফিস। বিগত ৫০ বছরের বকেয়া ১৮ লাখ ৩৬ হাজার ৭৮১ টাকা পরিশোধ করতে চসিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একইভাবে নগরের মাদারবাড়ি এলাকার সাড়ে ১২ একর সড়কের ওপর বছরে ৭৪ হাজার ৫২০ টাকা কর ধার্য করা হয়। সেই হিসাব অনুযায়ী, ৫০ বছরের বকেয়া ৩৩ লাখ ৪৩ হাজার ৪৬৪ টাকা কর পরিশোধ করতে চিঠি যায় চসিকে। 

নগরের আরেক এলাকা বন্দরের আট একর সড়কের ওপর বছরে ৪৯ হাজার ৮০ টাকা কর বসিয়ে ৫০ বছরের বকেয়া ২১ লাখ ২৮ হাজার ৮৪৮ টাকা এবং মগবাজার এলাকার পাঁচ একর সড়কের ওপর বছরে ৩৬ হাজার টাকা করে ৫০ বছরের বকেয়া ১৫ লাখ ৭০ হাজার পরিশোধ করতে চসিককে চিঠি দিয়েছে আগ্রাবাদ ভূমি অফিস। 
এই কর আদায়ে কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা। তারা চসিকের ভূমি সংক্রান্ত রেজিস্ট্রি না করতে সাব-রেজিস্ট্রারদের চিঠি দিয়েছেন। চসিকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ভূমি রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত সব সেবা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন। তারপর চসিক থেকে ভূমি, ফ্ল্যাট কেনাসহ যাবতীয় কাজে রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে কোনো নাগরিক সেবা পাচ্ছেন না। পদে পদে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

মাদারবাড়ির বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘করপোরেশন থেকে ফ্ল্যাট কিনেছিলাম। সেটি রেজিস্ট্রি করতে যাওয়ার পর সাব-রেজিস্ট্রার ফিরিয়ে দেন। ভূমি কর পরিশোধ না করায় এসি ল্যান্ডের নিষেধাজ্ঞার কথা বলে ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি করেননি সাব-রেজিস্ট্রার। নগরে মোট এক হাজার ৪৪২ কিলোমিটার সড়কের বকেয়া করের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১৩ কোটি টাকা। 

চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) সঙ্গে কথা বলি। হঠাৎ কেন এ ট্যাক্স বা কর বসানো হলো, চসিক এত টাকা কীভাবে পরিশোধ করবে বিস্তারিত আলোচনা করেও সুরাহা হয়নি। তাই এ বিষয়ে করণীয় জানতে মন্ত্রণালয়েও চিঠি পাঠিয়েছি।’  

আরও পড়ুন

×