পরের বছর থেকে হবে না শর্তে ২৮ আগস্ট হচ্ছে নৌকাবাইচ
বিয়ানীবাজার উপজেলার সোনাই নদীতে ২০১৪ সালের নৌকাবাইচের একটি দৃশ্য
বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৫২ | আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:০৪
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সুনাই নদীতে আয়োজিত নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতার শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে। তবে সমঝোতার অন্যতম শর্ত হিসেবে আগামী বছর থেকে সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন।
তিনি জানান, সামাজিক মাধ্যমে তৌহিদী জনতার নামে পোস্টার ছড়ানোর নির্দেশদাতা মাওলানা আব্দুল হক সভায় উপস্থিত ছিলেন না। যে কারণে কিছুটা হলেও শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
ফলে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্ট সুনাই নদীতে বাহাদুরপুর গাংপার যুব সমাজের উদ্যোগে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকেও প্রতিযোগিতা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
শনিবার রাতে বারইগ্রাম বাজারের পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র নিচতলায় এ বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে লাউতা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের যুবক, মুরব্বি, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। দীর্ঘ সময়ের আলোচনায় নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি, স্থানীয়দের মতামত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের জটিলতা এড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বিষয়টি সরেজমিনে পর্যালোচনা করতে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার বিকেলে কমিটির সদস্যরা নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করবেন।
লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, ‘নৌকা বাইচের সঙ্গে তৌহিদী জনতার বিষয়টি কেউ জড়িয়ে দিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। আমরা দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সুন্দর আলোচনার মাধ্যমে নৌকা বাইচ আয়োজনের জন্য একমত হয়েছি।’
তিনি বলেন, নদীভাঙনকবলিত এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘর রয়েছে-এমন স্থান থেকে নৌকা বাইচ কিছুটা সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ এসেছে প্রতিবাদকারীদের পক্ষ থেকে। আজ বিকেলে নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করে দেখা হবে, জায়গাটি কিছুটা সরানো সম্ভব কি না। সুযোগ থাকলে নৌকা বাইচের স্থান কিছুটা সরিয়ে নেওয়া হবে।
চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি ছাড়াও লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন, মোল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আতাউর রহমান, বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিনসহ কমিটির ১২ সদস্য স্থানটি পরিদর্শন করবেন।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে দুই পক্ষকে নিয়ে সভা হয়েছে। সভায় উভয় পক্ষ নৌকা বাইচ আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী বসতি, জমিজমা ও ভাঙনকবলিত এলাকার যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এ বিষয়টি দেখভালের জন্য ১২ জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এরপর এ নিয়ে আর কোনো জটিলতা হবে না।
ইউএনও আরও বলেন, নৌকা বাইচের আয়োজকদের সতর্কতার সঙ্গে আয়োজন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট বিয়ানীবাজারের সোনাই নদীতে নৌকা বাইচ বন্ধের দাবিতে ‘তৌহিদী জনতা’র নামে ফেসবুকে প্রচারণা চালায় একটি পক্ষ। এ নিয়ে ২১ আগস্ট দিবাগত রাতে দৈনিক সমকাল অনলাইনে এবং ২২ আগস্ট পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নেয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ২২ আগস্ট দিবাগত রাতে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নির্ধারিত স্থান ও সময়ে নৌকা বাইচ আয়োজনের বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়।
- বিষয় :
- সিলেট
- নৌকা বাইচ
- তৌহিদী জনতা