ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে জাহাজডুবি

মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মামুন নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় স্বজন

মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মামুন নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় স্বজন
×

আবদুল্লাহ আল মামুন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ | ২২:১৫

ভারতের উড়িষ্যা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ এমভি ওশান উইনার ডুবে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ বাংলাদেশি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শহরের কাটিয়া এলাকার বাসিন্দা। গত শনিবার জাহাজডুবির পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার। বর্তমানে ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর উদ্ধার অভিযানের দিকে তাকিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বজনদের।

মামুনের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল বাকি বলেন, ‘প্রায় চার মাস সমুদ্রে দায়িত্ব পালনের পর উড়িষ্যা থেকে সিঙ্গাপুরগামী এমভি ওশান উইনার জাহাজে ছিল মামুন। গত বুধবার তার সঙ্গে অনলাইনে সর্বশেষ কথা হয়েছে। তার স্ত্রীর সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার কথা হয়েছিল। এরপর শুক্রবার জাহাজটি লৌহ আকরিক নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার খবর পাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাহাজের ২৪ জন ক্রুর মধ্যে মামুনই একমাত্র বাংলাদেশি। দুর্ঘটনার পর দুজনকে জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়া গেলেও তাদের কেউ বাংলাদেশি নন। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ করছি। এখন পর্যন্ত মামুনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি।’

মামুনের স্বজনরা জানান, তাঁর মা দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে আক্রান্ত। ছেলের নিখোঁজ হওয়ার খবরে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁর স্ত্রী ও সন্তান উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। মামুনের বাল্যবন্ধু সাদাত আল কাবিজু তাঁর নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। দুর্ঘটনার পর নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। জীবিত কারও সন্ধান পাওয়া গেলে দ্রুত সে তথ্য পরিবারকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এমভি ওশান উইনার উড়িষ্যার পারাদ্বীপ বন্দর থেকে লৌহ আকরিক নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। জাহাজটি প্রায় ২২৫ মিটার দীর্ঘ এবং এতে প্রায় ৭২ হাজার ১০০ টন লৌহ আকরিক ছিল। গত ২২ আগস্ট বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার তথ্য পায়। পরে ভারতীয় কোস্টগার্ডের বরদ, আনমোল ও বিজিত জাহাজও অভিযানে নামে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে ২৪ জন ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে ২০ জন চীনের, তিনজন মিয়ানমারের ও একজন বাংলাদেশের নাগরিক। জাহাজডুবির পর এখন পর্যন্ত দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ২২ জনের সন্ধানে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন

×